Advertisement
  • স | হ | জ | পা | ঠ
  • অক্টোবর ১০, ২০২৫

ভারতে মুখ লুকোচ্ছে সূর্য, চার দশক ধরে চলছে রোদের আকাল — দায়ী কে?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারতে মুখ লুকোচ্ছে সূর্য, চার দশক ধরে চলছে রোদের আকাল — দায়ী কে?

ভারতের আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সূর্য উঠছে ঠিকই, কিন্তু তার কিরণ আর আগের মতো তেজস্বী নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে ভারতে সূর্যালোকের সময় লাগাতার কমে চলেছে। কারণ? বায়ুদূষণ, শহরায়ণ, অ্যারোসোলের অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং মেঘের ঘনত্বে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। আর এ অবস্থার জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন দেশের নীতিনির্ধারকদের নিষ্ক্রিয়তাকে।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি এবং ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তরফে যৌথভাবে চালানো একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ১৯৮৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ২০টি আবহাওয়া কেন্দ্র ও ৯টি অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ অংশেই বছরে সূর্যের দেখা কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ব্যতিক্রম কেবল উত্তর-পূর্বাঞ্চল, যেখানে সূর্যালোকের সময় কিছুটা স্থিতিশীল থেকেছে। চাঞ্চল্যকর এই গবেষণাটি গত ২ অক্টোবর প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক ‘নেচার’ পত্রিকায়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশকে ভারতের অর্থনীতি চাঙ্গা হতে শুরু করে। শহর বাড়ে, রাস্তা হয়, কারখানা গড়ে ওঠে, বাড়ে গাড়ির সংখ্যা। আর সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি পোড়ানো ও শিল্প থেকে নির্গত ধোঁয়া। সব মিলিয়ে পরিবেশে অ্যারোসোল কণার ঘনত্ব ভয়ঙ্কর ভাবে বেড়ে যায়। এই অ্যারোসোল সূর্যালোককে আটকে দেয়, বাড়িয়ে তোলে মেঘের স্থায়িত্ব। বিজ্ঞানীদের মতে, অতি ক্ষুদ্র কণাগুলি বাতাসে ঘুরে বেড়িয়ে সূর্যের কিরণকে মাটি পর্যন্ত পৌঁছতে বাধা দেয়। পাশাপাশি, এগুলি মেঘের প্রাকৃতিক গঠনকেও ব্যাহত করে, ছোটো ছোটো মেঘকণা তৈরি হয়, যেগুলির আয়ু হয় বেশি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় আকাশ ঢাকা থাকে।

গবেষণা বলছে, বছরের অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত ভারতে সূর্যালোক কিছুটা বেশি পাওয়া গেলেও, জুন-জুলাই মাসে রোদের সময় মারাত্মক ভাবে কমে যায়। দেশের উত্তর, হিমালয় পাদদেশ ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় এর প্রবণতা কিছুটা উল্টো হলেও, দক্ষিণ, পশ্চিম, পূর্বাঞ্চলে রোদের হাহাকার স্পষ্ট। এর আগেও কিছু গবেষণায় ‘সোলার ডিমিং’ বা সূর্যকিরণের হ্রাসের ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে এই গবেষণা পরিসংখ্যান ও সময়কাল, দুই দিক থেকেই অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিশ্বাসযোগ্য। তথ্য বলছে, ভারত একা নয়। চিন, জাপানও একই সময় এই ধরণের সমস্যা মুখে পড়েছিল। তবে তারা সময়মতো ব্যবস্থা নিয়েছিল। চিন এনেছিল ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন প্ল্যান’, জাপান কার্যকর করেছিল পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও কঠোর নির্গমন নিয়ন্ত্রণ। ফলে সেখানে বাতাসে অ্যারোসোলের মাত্রা কমে যায় এবং সূর্যালোক ফের বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ভারত? ভারতের পক্ষ থেকে এমন কোনো কার্যকর পরিবেশ নীতি দেখা যায়নি দীর্ঘদিন।

জলবায়ুর উপর এর প্রভাব কতখানি? গবেষণায় উঠে এসেছে, সূর্যালোক কমে যাওয়ার বিষয়টি কেবল আবহাওয়ার নয়, এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, সৌরশক্তি উৎপাদন, এমনকি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে ভারতের আকাশ আরো বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠবে। গবেষণা পত্রের প্রধান লেখকরা বলছেন, শহরায়ণ ও শিল্পায়নের পথ বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে তার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সাযুজ্য থাকা প্রয়োজন। নইলে ধীরে ধীরে আমরা সূর্যের আলোকেই হারিয়ে ফেলব।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!