Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৩, ২০২৩

কারও পদস্খলনের দায় দলনেত্রীর নয়, জ্যোতিপ্রিয়র মন্তব্যের তীব্র সমালোচনায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কারও পদস্খলনের দায় দলনেত্রীর নয়, জ্যোতিপ্রিয়র মন্তব্যের তীব্র সমালোচনায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক

“আমাকে বিজেপি ফাঁসিয়েছে। দুদিনের মধ্যেই সব প্রকাশ পাবে, আমি মুক্ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন”, সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কমান্ড হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যাওয়ার পথে এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন রেশন বন্টন দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হেফাজতে থাকা রাজ্যের প্রাক্তন খসদ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জ্যোতিপ্রিয়র এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য শুরু হরেছে।

এদিকে জ্যোতিপ্রিয়র এহেন মন্তব্যের পর লোকসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে বলেন, “সঠিক ভাবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কি বলেছে আমি জানি না। ও যদি বলে থাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন, তার মানে কি? ওনারা কি জানেন ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস করে কাউকে কোনও দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁর যদি পদস্খলন হয়, সেই দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? আমি জানি না জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কি বলেছেন। তবে তিনি যদি দুর্নীতি হয়েছে বলে থাকেন, তাহলে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ চিঠি লিখে জানান কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোষটা কোথায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বিশ্বাস করে লোকসভার চিপহুইপ করেছেন, আমার যদি পদস্খলন হয় সেই দশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম আসছে কিসের জন্য?”

ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতারির পর থেকে বিরোধীরা সমানে বলে চলেছেন, ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সময় পর্যন্ত রাজ্যের শাসক দলের মন্ত্রী-বিধায়ক মিলিয়ে ১৩ জন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রয়েছে। আর এই দুর্নীতি চক্রের সবটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন বলে বিরোধীদের দাবি। প্রসঙ্গত এই রাজ্যের শাসক দলের পুলিশই প্রথম রেশন দুর্নীতির মামলা শুরু করে। নদিয়ার কোতোয়ালি থানায় ২০২০ সালে প্রথম এফআইআর হয়। সেই সময় বাকিবুরকে গ্রেফতার করে তৃণমূল সরকার। রেশন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কল্যাণ নামে এক ব্যবসায়ীর কথা সামনে আসে। সেই সূত্রেই নাম পাওয়া যায় বাকিবুরের, আজ যে ইডির হেফাজতে।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এতো বড় একটা দুর্নীতি বাকিবুরের একার পক্ষে চালানো সম্ভব নয়। সবটাই জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” সৌমিকের সুরে সুর মিলিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন, এটা আগে থেকেই আমরা বলে আসছি। কালীঘাটের নির্দেশ ছাড়া কিছু হয় না। মমতার অনুকূল্যেই সব হয়েছে।” শুক্রবার জ্যোতিপ্রিয় বললেন, “মমতাদি সব জানেন।”

যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভার সাংসদ শান্তনু সেন বলেছেন, “বাকিবুরের উত্থান বাম জমানায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশই ২০২০ সালে বাকিবুরকে গ্রেফতার করেছিল।”

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন বলতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা স্পষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে জ্যোতিপ্রিয় মমতা, অভিষেক সব জানে বলতে বিজেপির চক্রান্তের কথা বলেছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!