- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৮, ২০২৬
জম্মু-কাশ্মীরে টানা পাঁচ দিনের সেনা অভিযান, অবশেষে সোপিয়ানে নিহত লস্করের শীর্ষ কমান্ডার
টানা পাঁচ দিনের অবরোধ, সাতটি গ্রাম জুড়ে চিরুনি তল্লাশি এবং দফায় দফায় গুলির লড়াই। শেষ পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হল লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি জাকির গনাই। গোয়েন্দাদের ওয়ান্ডেড লিস্টে ‘এ++’ তালিকাভুক্ত এই জঙ্গির দেহ বুধবার উদ্ধার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, দক্ষিণ কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড়ো সন্ত্রাসবিরোধী সাফল্য।
তবে, সেনার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। জাকিরের মৃত্যুর পর এখন নিরাপত্তা বাহিনীর নজর দ্বিতীয় জঙ্গি লতিফ ভাটের দিকে। তাকে ধরতে বা নিকেশ করতে গোটা এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, গত ৩ জুলাই সোপিয়ানের মীমন্দর এলাকার বিস্তীর্ণ ফলের বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় প্রথম ধরা পড়ে জাকির গনাই ও লতিফ ভাট। দুজনেই দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার বাসিন্দা। সে সূত্র ধরেই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-এর যৌথ দল ব্যাপক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী পাঁচ দিন ধরে সাতটি গ্রাম কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়। ঘরে ঘরে তল্লাশির পাশাপাশি বিস্তীর্ণ ফলের বাগান ও ঘন গাছপালায় চলে চিরুনি অভিযান।
অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ফলের বাগানের ভিতরে প্রবেশ করতেই আত্মগোপন করে থাকা জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় যৌথ বাহিনী। দফায় দফায় চলে গুলির লড়াই। কোনো ভাবেই যাতে জঙ্গিরা পালাতে না পারে, সে জন্য সম্ভাব্য সব পালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ‘ভিক্টর ফোর্স’ গোটা এলাকায় বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। রাতের অন্ধকারে জঙ্গিরা যাতে ঘন পাতার আড়াল কাজে লাগাতে না পারে, সে জন্য এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত আলোরও ব্যবস্থা করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, দীর্ঘ ক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর জাকির গনাই নিহত হয়। পরে তার দেহ উদ্ধার করা হয়, পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এর পর থেকেই দ্বিতীয় জঙ্গি লতিফ ভাটের খোঁজে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর আশা, তাকেও দ্রুত খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, জাকির ২০২৪ সালে লস্কর-ই-তৈবায় যোগ দিয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার হিসেবে উঠে আসে। কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। সে কারণেই তাকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ‘মোস্ট ওয়ান্ডেড’ তালিকার শীর্ষে রেখেছিল। অন্যদিকে, লতিফ ভাট গত বছর জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
ঐতিহাসিক ও কৌশলগত দিক থেকেও সোপিয়ানের গুরুত্ব রয়েছে। দক্ষিণ কাশ্মীরকে মধ্য কাশ্মীর এবং পির পাঞ্জাল পর্বতশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথের অন্যতম এ এলাকা। অতীতে বহু বার জঙ্গিদের চলাচলের করিডর হিসেবেও এ অঞ্চলের নাম উঠে এসেছে। সে কারণেই নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এ অঞ্চল সব সময়ই বিশেষ নজরদারির আওতায় থাকে। বুধবারের অভিযানের পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ সমাজমাধ্যম এক্স-এ জানায়, সোপিয়ানের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি), রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ অভিযানে লস্কর-ই-তৈবার এক জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। পোস্টে লেখা হয়, ‘You Can Run But You Can’t Hide!’ অর্থাৎ, পালানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইন ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাত এড়ানো যায় না। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দ্বিতীয় জঙ্গি লতিফ ভাটকে খুঁজে বের করতে সাত গ্রাম জুড়ে সেনাতল্লাশি ও অপারেশন অব্যাহত রয়েছে।
❤ Support Us








