- স | হ | জ | পা | ঠ
- ফেব্রুয়ারি ১, ২০২২
লাই ডিটেক্টর-এর নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করলেন ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা
নতুন লাই ডিটেকটর প্রযুক্তি দেখাচ্ছেন অধ্যাপক হানেইন
রিপোর্টার নাতালি লিসবোনাকে নতুন লাই ডিটেকটর প্রযুক্তি দেখাচ্ছেন অধ্যাপক হানেইন ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক অধ্যাপক হানেইন এবং তার সহযোগী অধ্যাপক দিনো লেভি । তাঁরা ‘লাই ডিটেকশন’ অর্থাৎ মিথ্যা শনাক্তকরণের একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন ।
তাঁদের মতে, মিথ্যাবাদী দু’রকম হয় । এক দল যাঁরা মিথ্যা বলার সময় নিজের অজান্তেই তাঁদের চোখের ওপরের ভ্রু নড়াচড়া করতে থাকে । আরেক দল মিথ্যা বলার সময় তাঁদের ঠোঁট একটু বেশি নড়াচড়া করে ।অধ্যাপক হানেইন বলছেন, তাঁরা যে সফটওয়্যার এবং এ্যালগরিদম তৈরি করেছেন তা ৭৩% মিথ্যা শনাক্ত করতে পারবে । তাঁরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এ পদ্ধতিকে আরো উন্নত করার জন্য।
সাধারণত যখন কোনো ব্যক্তি মিথ্যা বলেন, তিনি চেষ্টা করেন যাতে তাঁর মিথ্যে কেউ না ধরতে পারে । কিন্তু অধ্যাপক হানেইন আবিষ্কৃত প্রযুক্তির হাত থেকে একটা মিথ্যাকে গোপন রাখা খুবই কঠিন – বলেছেন অধ্যাপক লেভি ।যদি বহু প্রাচীন কাল থেকে মিথ্যা ধরার নানা কায়দা প্রচলিত রয়েছে বিশ্বের বহু দেশে । এই প্রয়াসের সবচেয়ে পুরোনো দৃষ্টান্তগুলোর একটি পাওয়া যায় চিনে, ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে । পদ্ধতিটি হল, কেউ মিথ্যা বলেছে কিনা তা ধরার জন্য তাঁর মুখ ভর্তি করে শুকনো চাল ঢুকিয়ে দেয়া হত । কিছুক্ষণ পরে সেই চালের দানাগুলো শুকনো রয়ে গেলে, ধরে নেয়া হত তিনি মিথ্যা বলেছেন । এ পেছনের তত্ত্বটা হলো – কেউ যদি মিথ্যা বলে থাকেন তাহলে ধরা পড়ার ভয়-উৎকণ্ঠায় তাঁর মুখের ভেতরটা শুকিয়ে যাবে- ফলে মুখে কম লালারস উৎপন্ন হবে এবং চালগুলো শুকনো থেকে যাবে ।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে আবিষ্কৃত হয় প্রথম মিথ্যা ধরার যন্ত্র পলিগ্রাফ । এরপর সবচেয়ে পরিচিত যন্ত্রটি হচ্ছে ‘এ্যানালগ পলিগ্রাফ’। এই মেশিনে তিন-চারটি কালি-ভরা সূঁচ থাকে যা একটি চলন্ত কাগজের ওপর দাগ-কাটতে থাকে।
অন্য প্রান্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটির হাতের আঙুল, বাহু ও শরীরে লাগানো থাকে সেন্সর। তাঁকে অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব দিতে হয় এবং সেই সময় তার শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি, হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ কত এবং তাঁর ঘাম হচ্ছে কিনা – এগুলো মাপা হয় । তবে এসব মেশিন কতটা নির্ভুল এবং একে ফাঁকি দেয়া সম্ভব কিনা – এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই উদ্বেগ আছে । আর সেকারণেই সারা বিশ্বের গবেষক এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে আরো উচ্চ প্রযুক্তির পলিগ্রাফ তৈরির জন্য ।নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরের ইরাসমুস বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. সেবাস্টিয়ান স্পিয়ার এবং তার দল ব্যবহার করছেন একটি এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) মেশিন । কেউ মিথ্যা বলছে কিনা বা প্রতারণা করছে সেটা এই যন্ত্র দিয়ে ধরাটাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।
তাঁরা যেটা করছেন তা হলো – একজন লোক যখন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন, তখন তাঁর মস্তিষ্কের স্ক্যান করা হলে তাতে রঙের কোন পরিবর্তন ধরা পড়ে কিনা।যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের কনভেরাস নামে একটি প্রতিষ্ঠান আইডিটেক্ট নামে একটি উচ্চ-প্রযুক্তির পদ্ধতি বের করেছে – যা ইতোমধ্যেই বহুলাংশে ব্যবহার হচ্ছে । এটা মিথ্যা ধরার জন্য চোখের অনৈচ্ছিক নড়াচড়াকে ধরতে পারে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সফটওয়ার ফলাফল জানিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই ফলাফল ৮৬ থেকে ৮৮ শতাংশ সঠিক। কনভেরাস বলছে, তাদের এই আইডিটেক্ট এখন ৫০টি দেশে ৬০০-রও বেশি গ্রাহক ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫টি এবং সারা বিশ্বের শতাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এটি ব্যবহার করছে ।
তবুও মিথ্যা ধরার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা থেকে যাচ্ছে । নৈতিকতার দিক থেকে পরীক্ষাটি আরও স্বচ্ছ করার জন্যই বিশ্বের বহু দেশের বিজ্ঞানীরা মিথ্যা ধরার ১০০ শতাংশ শুদ্ধ প্রযুক্তি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে নানা পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন ।
তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মনে করেন, এক সময় ভিডিও ক্যামেরার জায়গা নেবে ইলেকট্রোড । তাঁরা বলছেন, একসময় এমন সফটওয়্যার আসবে যার ফলে দূর থেকে বা এমনকি ইন্টারনেটে লিংকেও একজন মিথ্যাবাদীকে চিহ্নিত করা যাবে – তাঁর মুখের পেশীর নড়াচড়া থেকে।
অধ্যাপক লেভি বলছেন, ‘ব্যাংকে, বিমান বন্দরে, অনলাইনে চাকরির ইন্টারভিউ বা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময়, শক্তিশালী ক্যামেরা থাকবে যা মুখমণ্ডলের পেশীর নড়াচড়া দেখেই ধরা যাবে কোনটি সত্য বক্তব্য এবং কোনটি মিথ্যা।’
❤ Support Us








