- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৩, ২০২৫
মধ্যরাতে ভোটাভুটির পর লোকসভায় পাশ হল ওয়াকফ বিল, আজ পেশ রাজ্যসভায়
তুমুল বাদানুবাদ, তীব্র বিরোধিতার মাঝেই বুধবার মধ্যরাতে ভোটাভুটির পর লোকসভায় পাশ হল ওয়াকফ সংশোধনী বিল। বিলের পক্ষে ২৮৮টি ভোট পড়েছে। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩২টি। ভোটাভুটির সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন। ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন উন্নত করতে, প্রযুক্তি–চালিত ব্যবস্থাপনা চালু করতে, জটিলতা মোকাবেলা করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই বিলটি নিয়ে আসা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রস্তাবিত বিলটি বিবেচনা এবং পাসের জন্য নিম্নকক্ষে উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, যৌথ সংসদীয় কমিটির পরামর্শ প্রক্রিয়া ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি সংসদীয় প্যানেল কর্তৃক পরিচালিত সর্ববৃহৎ অনুশীলন। পেশ হওয়ার পর দুপুর ১২টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। সরকার পক্ষের সাংসদরা বিলের পক্ষে মতামত দেন। বিরোধী সাংদদরা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন।
সংসদে ওয়াকফ বিলের ওপর আলোচনার সময়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জোরালোভাবে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মন্ত্রিসভার সহকর্মীর দ্বারা উত্থাপিত বিলটিকে আমি সমর্থন করি। দুপুর ১২টা থেকে যে আলোচনা চলছে তা আমি মনোযোগ সহকারে শুনছি। আমার মনে হয় অনেক সদস্যই বিলটি সম্পর্কে ভুল বুঝছে। সেটা হয় সত্যিকার অর্থে অথবা রাজনৈতিক কারণে।’ ওয়াকফ সংশোধনী বিলের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ আরও বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের কোলাপুর জেলার ভাদাং গ্রামে অবস্থিত মহাদেব মন্দিরের মালিকানা দাবি করেছে ওয়াকফ বোর্ড। একই সাথে, ওয়াকফ বোর্ড জোরপূর্বক বিডের কঙ্কলেশ্বর মন্দিরের ১২ একর জমি দখল করেছে।’
বিলটির ওপর আলোচনার সময়, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে পুরনো ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে জোর সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৫৪ সালে সংসদ সদস্যদের বিলের বিরোধিতা সত্ত্বেও, কংগ্রেস দল মুসলিমদের তুষ্ট করার জন্য ওয়াকফ আইন পাস করে। অন্য কোনও দেশে ওয়াকফকে এত ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, আপনি কি ভারতকে একটি মুসলিম জাতিতে পরিণত করতে চান?’
বিলের ওপর আলোচনার সময় বিরোধী সাংসদরা সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। কংগ্রেসের গৌরব গগৈ সংসদে শাসক দলের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘যখন আপনারা ভারত ছাড় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছিলেন না, তখন তারা ভারত ছাড় আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল। যখন আপনারা ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার চিঠি লিখছিলেন, তখন এই সম্প্রদায়ের মানুষ শহীদ হচ্ছিল।’ এর পাশাপাশি, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, শিবসেনার (উদ্ধব ঠাকরে) অরবিন্দ সাওয়ান্ত এবং এআইএমআইএমের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ওয়াকফ সংশোধনী বিলের তীব্র সমালোচনা করেন।
ওয়াকফ বিল নিয়ে ‘এক্স’–এ এক পোস্টে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলটি মুসলিমদের প্রান্তিকীকরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত আইন এবং সম্পত্তির অধিকার হরণ করার একটি অস্ত্র। আরএসএস, বিজেপি এবং তাদের মিত্রদের দ্বারা সংবিধানের ওপর এই আক্রমণ আজ মুসলমানদের লক্ষ্য করে করা হচ্ছে কিন্তু ভবিষ্যতে অন্যান্য সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করার জন্য একটি নজির স্থাপন করবে। কংগ্রেস পার্টি এই আইনটির তীব্র বিরোধিতা করে কারণ এটি ভারতের ধারণাকে আক্রমণ করে এবং অনুচ্ছেদ ২৫, ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে।’
বারামুল্লার সাংসদ আব্দুল রশিদ শেখ, যিনি ইঞ্জিনিয়ার রশিদ নামে পরিচিত, ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলের বিতর্কের ওপর লোকসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমার কোনও শত্রু বা বন্ধু নেই। আমি কেবল বলতে চাই যে, বিজেপি খোলাখুলিভাবে মুসলমানদের তাদের স্থান দেখিয়ে দেয়। কংগ্রেসের ক্ষেত্রে, তারা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে পরোক্ষভাবে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করে। আমি মুসলমানদের বলতে চাই যে তারা দুই দলের মধ্যে আটকে থাকবেন না। আমরা ভোট ব্যাঙ্কের বাইরে। ভারতীয় মুসলমানদের কেন তাদের আনুগত্য প্রমাণ করতে হবে? ভারত যতটা হিন্দুদের, ততটাই মুসলমানদের। আমি ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে কিন্তু দেশের মুসলমানদের ওয়াকফের সম্পত্তি সম্পর্কে আত্মসমালোচনা করা উচিত।’
❤ Support Us








