Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৪, ২০২৬

আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাসে মোদি সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’? বিরোধীদের প্রধান আপত্তিই খসড়ায় সংশোধনের ইঙ্গিত, ডিএমকের সমর্থন আদায়ে নতুন কৌশল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাসে মোদি সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’? বিরোধীদের প্রধান আপত্তিই খসড়ায় সংশোধনের ইঙ্গিত, ডিএমকের সমর্থন আদায়ে নতুন কৌশল

প্রায় ১২ বছরের মধ্যে প্রথমবার সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছিল কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) আইন পাস করানো সম্ভব হয়নি। সেই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার সংসদের বাদল অধিবেশনে যে কোনও মূল্যে বিল দু’টি পাস করাতে মরিয়া কেন্দ্র।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শুধু বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরালেই হবে না, বিল পাস করাতে বিরোধী দলের একাংশের সমর্থনও নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই এবার নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে মোদি সরকার। এতদিন যাঁদের বিজেপি কার্যত ‘অচ্ছুত’ বলে দূরে রেখেছিল, সেই তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরানোর পাশাপাশি ডিএমকে এবং এনসিপির সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিএমকেকে রাজি করানো। কারণ, আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে দক্ষিণ ভারতের দলগুলির আপত্তির কেন্দ্রে ছিল উত্তর-দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যের প্রশ্ন। কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের দাবি ছিল, যদি শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়, তাহলে উত্তর ভারতের অধিক জনবহুল রাজ্যগুলির আসন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। বিপরীতে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলি তুলনামূলকভাবে কম আসন পাবে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করবে।

গতবার সংসদে বিল পেশের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, জনসংখ্যাকে একমাত্র ভিত্তি করা হবে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান লোকসভা আসনের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রায় ৫০ শতাংশ হারে আসন বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস বিলের খসড়ায় লিখিতভাবে উল্লেখ ছিল না।

এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেছিল বিরোধীরা। কংগ্রেসের প্রশ্ন ছিল, সরকার যদি সত্যিই ৫০ শতাংশ হারে আসন বৃদ্ধির নীতি অনুসরণ করতে চায়, তাহলে সেটি আইনের খসড়ায় স্পষ্টভাবে লেখা হচ্ছে না কেন? ভবিষ্যতে সরকার অবস্থান বদল করলে তার কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে না বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিরোধীরা। এই কারণেই ডিএমকে-সহ দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি দল বিলটির বিরোধিতা করেছিল।

এবার সেই আপত্তির জায়গাতেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। এমনও জল্পনা রয়েছে যে, ডিএমকে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছে কেন্দ্র।

সূত্রের দাবি, ডিএমকের সমর্থন নিশ্চিত করতে সরকার এবার বিলের খসড়াতেই সব রাজ্যের বর্তমান লোকসভা আসনের উপর ৫০ শতাংশ হারে আসন বৃদ্ধির বিষয়টি লিখিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি। অর্থাৎ, যে বিষয়টি এতদিন বিরোধীদের প্রধান আপত্তির কারণ ছিল, সেটিকেই সংশোধন করে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে মোদি সরকার।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি এই সংশোধনী বিলের চূড়ান্ত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে ডিএমকের মতো দক্ষিণের কয়েকটি দলের অবস্থান বদলাতে পারে। সেক্ষেত্রে সংসদের বাদল অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাস করানোর পথে কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় বাধা অনেকটাই দূর হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!