- গুচ্ছ কবিতা
- এপ্রিল ১৫, ২০২৫
গুচ্ছ কবিতা
চিত্রকর্ম : রামকিঙ্কর বেজ
ঝরেপড়া
সুস্থির ডালপালা থেকে কখনো অন্যমনস্ক
পাতা ঝরে যায় !
ঝরে যাওয়ার কি ইঙ্গিত থাকে কোথাও ? নিরক্ষর
পড়তে পারি না ।
বাগানে পাতা কুড়োতে গিয়ে আমি তাই
ঝরে-পড়া কিছু সম্পর্ক কুড়িয়ে ফেলি । নাকি
ঝরে পড়া কিছু অভিমান, যা ভারী হতে হতে
মেঘ ঘনিয়ে তোলে । কুড়োনো পাতার ভেতর
সেইসব মেঘে-মেঘে
আশ্রয়হারা পরাজিতদের গ্লানি, আমার গৃহের
পথ ভুলিয়ে দেয় ।
অন্যমনস্ক কোনো শাখা থেকে একদিন
আমিও কি ঝরে পড়ব অনাদরে ? ভাবতে ভাবতে
প্রাণপণে সরাই অভিমানের ফেনা । একলা করো,
একলা করো হে ঋজু বৃক্ষ, যেন তোমাকে সপাটে জড়িয়ে
বেঁচে থাকার ভেতর
কোনো কুটিল বাতাস খেলা করতে না পারে,
ইচ্ছেমতন…

চিত্রকর্ম: রামকিঙ্কর বেজ
মা–বর্ণেরআলো
মা আমাদের কোনোদিন-ই ভাত বেড়ে দেননি,
স্বামী পরিত্যক্তা এক পিসিমা দিতেন । সবার অলক্ষ্যে
মা আমাদের আকাশ বেড়ে দিতেন, নৈঃশব্দ্য বেড়ে দিতেন,
কাঁচালঙ্কা পেঁয়াজের মতন সেসব ভাতের সঙ্গে মেখে
আমরা উদর পূরণ করতাম । ধূসর হয়ে থাকা মায়ের চোখদুটি
জ্বলজ্বল করে উঠত হ্যারিকেন-এর আলোয় ।
পিসিমার দাপটই ছিল শেষ কথা । কেননা দর্পিত পিসিমারা
বাবাদের কুকীর্তি আঁচলে ঢেকে রাখে । মায়ের আঁচল
ঠিক এমন বৃহৎ ছিল না যে
আমাদেরকে জড়িয়ে রাখার পরও কিছুটা উদ্বৃত্ত থেকে যায় ।
ফলত যা হওয়ার তাই-ই । ওই ভুসোকালি পড়া
হ্যারিকেন-এর কালি তুলতে তুলতে তাঁর পরমান্ন
ক্ষয় হতে থাকে।
মা নেই। আমরা পাঁচ ভাইবোন আজও সেই হ্যারিকেনের
মৃদু আলোয়
গোল হয়ে বসি। টুকরো টুকরো আকাশ আর নৈঃশব্দ্য
খেলা করে আমাদের সবটুকু রক্তের মহিমায়।
সারাটা দিন ধরে ভুসোকালি মুছি, মুছতেই থাকি,
মা-বর্ণের আলো যেন কিছুতেই ফ্যাকাসে না হয় ।

চিত্রকর্ম: সুশান্তকুমার অধিকারী
অন্বেষণ
নদী তার আপনভোলা পাহাড়টিকে খোঁজে। খুঁজতে খুঁজতে
এঁকেবেঁকে অবাধ্য আর নাছোড় স্মৃতিদের কাছে
নতজানু হয়ে থাকে ! বহুদূরের নীলিমা থেকে
পুরনো কালের তরী ভেসে ভেসে আসে। দু-চোখের
নির্ঝরিণী বেয়ে
যেসব মণিমুক্তো ঝরে পড়ে অজান্তে, সেসব কুড়িয়ে
নদী স্বাবলম্বী হতে চায়।
আমিও কি স্বাবলম্বী হতে চেয়েছি কখনো ?
ওগো ধানদূর্বা, ওগো ললিত রাগিণী তোমাদের সুরে
বেজে উঠতে চেয়ে
দিগ্ভ্রান্ত হয়ে আছি বহুদিন। আমাকে মন্ত্র দাও
ভাসানের। অবাধ্য আর নাছোড় স্মৃতিরেখা পার হয়ে
ওই নদীটির সাথে আমিও আমার
পাগাড়টিকে খুঁজি, খুঁজতেই থাকি…
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
❤ Support Us








