- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৩১, ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর কতটা পড়তে পারে, তা পর্যালোচনা করতে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি (সিসিএস)-এর সদস্যদের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আমলারা এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই দেশে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং চলতি বছরের রবি মরসুম ও আগামী বছরের খরিফ মরসুমের জন্যও পর্যাপ্ত সার উপলব্ধ থাকবে। পাশাপাশি, দেশীয় পিএনজি (পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস)-এর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। যে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সমস্ত মন্ত্রক সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও সরকার জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পর গত দেড় সপ্তাহ ধরে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার জর্ডনে ইরানি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বায়ুসেনা। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দ্বীপটির একটি জনবহুল এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলেছে। এছাড়া বুশেহর শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এখনো পর্যন্ত হতাহতের সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, স্থানীয় সূত্রে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
❤ Support Us





