- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২০, ২০২৫
ওয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক মোদির। আবার চালু হতে চলেছে দুই দেশের বিমান পরিষেবা, সীমান্ত বাণিজ্য
ভারত ও চীনের মধ্যে আবার সরাসরি বিমান চলাচল চালু হতে চলেছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু সরাসরি বানিজ্য চলাচলই নয়, তিনটি বাণিজ্য পয়েন্ট লিপুলেখ পাস, শিপকিলা পাস এবং নাথুলা পাসের মাধ্যমে পুনরায় সীমান্ত বাণিজ্য চালু করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে ২ দিনের ভারত সফরে এসেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি। তাঁর সঙ্গে বৈঠকেই এই দুটি ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর থেকেই রাশিয়া, চিনের মতো শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের উত্তেজনা কমাতে সচেষ্ট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি–কে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াং ইয়ি প্রথমে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালে সঙ্গে ও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারত–চিন সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং ন্যায্য ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সীমান্ত সমাধানের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ির সঙ্গে ক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স–এ লিখেছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ির সঙ্গে দেখা করতে পেরে আনন্দিত। গত বছর কাজানে প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি শি–র সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকে ভারত–চিন সম্পর্ক একে অপরের স্বার্থ এবং সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার দ্বারা পরিচালিত হয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে। আমি এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিয়ানজিনে আমাদের পরবর্তী বৈঠকের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল, গঠনমূলক সম্পর্ক আঞ্চলিক পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।’
ওয়াং ইয়ি–র সঙ্গে বৈঠকের পর ভরতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘দুই পক্ষই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চীনের মূল ভূখণ্ড এবং ভারতের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে এবং বিমান পরিষেবা চুক্তি চূড়ান্ত করতে সম্মত হয়েছে। উভয় দিকের পর্যটক, ব্যবসা, মিডিয়া এবং অন্যান্য দর্শনার্থীদের ভিসা প্রদানের সুবিধার্থেও সম্মত হয়েছে।’ ডোকলাম সংকটের পর দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারত ও চিন ২০২৬ সাল থেকে তিব্বতের কৈলাস পর্বত–গ্যাং রেনপোচে এবং মানস সরোবর–মাপাম ইউন তসোতে ভারতীয় তীর্থযাত্রা চালু করার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দুই দেশি লিপুলেখ পাস, শিপকি লা পাস এবং নাথু লা পাস নামে তিনটি মনোনীত বাণিজ্য পয়েন্টের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।’ দুই প্রতিবেশী দেশ সীমান্ত ইস্যুতে কমপক্ষে তিনটি নতুন প্রক্রিয়া স্থাপনে সম্মত হয়েছে। চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ওয়াং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে বলেছেন যে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা উভয় দেশের মূল স্বার্থের জন্য। তিনি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত আলোচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যের দিকে কাজ করার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।’
❤ Support Us








