- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- নভেম্বর ১৪, ২০২৫
অথৈ জলে বাংলার স্বাধীন সিনেমা ! ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর মুক্তি স্থগিত
আজ, ১৪ নভেম্বর মুক্তি পাবার কথা ছিল বাংলা সিনেমার নতুন প্রজন্মের স্বতন্ত্র উদ্যোগে তৈরি ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’। সিনেমার পোস্টার দেখে, ট্রেলার দেখে চমকে উঠেছিলেন দর্শকরা। প্রতিটি পড়তে রহস্য, উত্তেজনা আর নৃসংসতার অভূতপূর্ব এক চিত্রকল্প তৈরি করে ফেলেছিল স্বল্প পরিসরেই। মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন অগুনতি সিনেমাপ্রেমীরা। কিন্তু ছবি মুক্তির দু-দিন আগে হঠাৎই জটিলতা। অভিযোগ, ছবিটি ‘ইম্পা’ ও ফেডারেশনের চুক্তি অনুযায়ী তৈরি হয়নি। ফেডারেশন আপাতত ছবির মুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি ‘ইম্পা’ বা ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতিকে জানিয়েছে।
ছবিটি ২০২১ সালে তৈরি হয়, বাজেট প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। পরিচালক জয়ব্রত দাস জানিয়েছেন, কোভিড পরবর্তী সময়ে এসআরএফটিআই-এর ছাত্রছাত্রীরা মিলে ‘ক্রাউডফান্ডিং’-এর মাধ্যমে ছবিটি নির্মাণ করেছেন। জয়ব্রত বলেন, ‘ছবিটা বানানোর সময় আমরা জানতামই না, ফেডারেশনের অনুমতি লাগবে। আমাদের পুরো টিম— স্পটবয় থেকে চিত্রগ্রাহক সবাই ফিল্ম স্কুলের ছাত্রছাত্রী। এখন এই জটিল পরিস্থিতিতে আমরা ভীষণ উৎকণ্ঠায় আছি।’ ফেডারেশনের অভিযোগ, নির্মাণে গিল্ডের একজন সদস্যও যুক্ত ছিলেন না। এ কারণেই মুক্তি আপাতত আটকে দেওয়া হয়েছে। যদিও ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এই বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাননি।
ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন, অভিনয় করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ, সৌরভ দাস, পায়েল সরকার, ঋষভ বসু, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরাধা মুখার্জী, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, অমিত সাহা, অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, রানা বসু ঠাকুর এবং অঞ্জন রায় চৌধুরী। চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন অর্ণব লাহা এবং নবনীল সান্যাল। সম্পাদনা করেছেন আশিক সরকার। সঙ্গীতের দায়িত্বে সৌম্য ঋত এবং গায়ক-গায়িকার মধ্যে আছেন সৌম্য ঋত ও নবাগতা শ্রুতি। কস্টিউম ও প্রোডাকশনসহ অন্যান্য কলাকুশলী ছিলেন ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীদের যৌথ প্রচেষ্টায়। ছবি মুক্তি প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘ঠিক কোন বিষয়ে ফেডারেশনের আপত্তি তা জানি না। তবে শুনেছি, মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর আগে ‘দোস্তজী’, ‘ঝিল্লি’-এর মতো স্বাধীন ছবি তৈরি হয়েছে, যা পুরস্কারও পেয়েছে। মনে করি, উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া উচিত। যদি কিছু জরিমানা দিতে হয়, তাতেও কোনো আপত্তি নেই। কারণ, ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা অর্থ তুলে ছবিটা তৈরি করেছে। তাই ফেডারেশনের এত কড়া হওয়া উচিত নয়।’ অন্য অভিনেতা সৌরভ দাস জানিয়েছেন, ‘আমি ফেডারেশনের নিয়মকানুনের ব্যাপারে অবগত নই। আমার কাজ হলো চরিত্রে মন দেওয়া। যেহেতু ছবিটা ছাত্রছাত্রীরা বানিয়েছে, আমরা কেউ পারিশ্রমিক নিইনি। নিয়ম ভেঙেছে কি না, তা জানি না। তবে ছবিটা মুক্তি পাওয়া উচিত। এতে আরো অনেক নতুন প্রজন্ম সাহস পাবে স্বাধীনভাবে ছবি বানাতে।’
এদিকে, ছবির সহ প্রযোজক সৌম্য সরকার বলেন, ‘আমরা ২০২৩ থেকে ছবির সঙ্গে যুক্ত। তখন শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের প্রযোজনা সংস্থা সব সময় ফেডারেশনের নিয়ম মেনে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে পরিচালক ও ফেডারেশন যেটা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই মানা হবে।’ পরিবেশক পঙ্কজ লাডিয়া জানিয়েছেন, ফেডারেশন, পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করবেন। শোনা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার পরিচালক জয়ব্রত দাস এবং প্রযোজনা সংস্থা ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জয়ব্রত বলেন, ‘ছবি মুক্তি পাক, এটাই চাই। তা না হলেও ছবি তৈরি বন্ধ করব না। প্রয়োজনে বাংলা নয়, অন্য ভাষায় ছবিটি তৈরি করব।’
তবে প্রশ্ন উঠে, শিশু দিবসে অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেটধারী ছবি কেন মুক্তি পাচ্ছে? সহ-প্রযোজক সৌম্য সরকার এবং সংকেত মিশ্র বলেন, ‘প্রতিবছর শিশু দিবসে বাচ্চাদের জন্য ছবি মুক্তি পায়। এই বছর হয়তো বড়ো হয়ে যাওয়া বাচ্চাদের জন্য ছবি মুক্তি পাক। ফিল্ম ইনস্টিটিউটের কয়েকজন বন্ধু মিলে, সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ৪ বছর ধরে জয়ব্রত ছবিটি তৈরি করেছেন। বহুবার কাজ থেমেছে, আবার ফান্ড জোগাড় করে শুরু হয়েছে।’ ফিল্ম স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে তৈরি ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর মুক্তি-জট বাংলা সিনেমা জগতে নতুন এক বিতর্ক তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ছবিটি মুক্তি পাবে কি না, তা এখন দর্শক এবং নির্মাতা উভয়ের কাছেই অজানা।
❤ Support Us








