- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১১, ২০২৫
বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যে বিতর্ক ছাড়াই লোকসভায় আয়কর বিল পাস
লোকসভায় বিনা বিতর্কে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের আনা আয়কর বিল পাস হয়ে গেল। শুক্রবার সরকার লোকসভায় আয়কর বিল এসেছে ২০২৫ প্রত্যাহার করার পর সোমবার বিলের আয়কর ২ নম্বর বিল ২০২৫ পেশ করা হয়েছিল, যা সিলেক্ট কমিটির প্রায় সমস্ত সুপারিশ অন্তর্ভূক্ত করে, যারা আইনটি আইনটি পরীক্ষা করেছিল।
বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যে বিতর্ক ছাড়াই লোকসভায় নতুন আয়কর বিল পাস
আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক : বৈজয়ন্ত পাণ্ডার নেতৃত্বাধীন সিলেক্ট কমিটির বেশিরভাগ সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে আয়কর বিলের একটি নতুন সংস্করণ সোমবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে, এটা আগেই জানা ছিল। বিলের একাধিক সংস্করণ নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সকল পরিবর্তন করে বিলের একটি সংযুক্ত ও সংস্করণ উপস্থাপন করতেই এই নতুন বিলটি সোমবার সংসদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করার কথা ছিল।
তবে সোমবার সংসদে বিরোধী সাংসদরা যখন এসআইআর বিরোধী প্রতিবাদে মুখর, তখনই লোকসভায় আয়কর আইনের এই নতুন বিলটি পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং কোনও আলোচনা ছাড়াই সোমবার নজির বিহীন ভাবে লোকসভায় এই বিলটি পাস হয়ে গেল। বিরোধিদের কন্ঠরোধ করে, মতামতকে মান্যতা না দিয়ে এভাবে সংসদে কোনও বিল পাস হওয়া নজিরবিহীন ঘটনা বলে বিরোধিরা কেন্দ্রীয় সরকারে কঠোর সমালোচনা করে।
আয়কর বিল ২০২৫ যেটি চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং বর্তমান আয়কর আইন, ১৯৬১-কে প্রতিস্থাপন করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল তা গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল সংসদে প্রবল হইচইয়ের ফলে। সিলেক্ট কমিটি গৃহ সম্পত্তি থেকে আয় করা নাগরিকদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিল বলে জানা যায়। প্রথমত, বর্তমান আইনে পৌর কর বাদ দেওয়ার পরে যে ৩০% স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন অনুমোদিত সেটি যেন স্পষ্টভাবে নতুন আইনে উল্লেখ থাকে। এতে বিভ্রান্তি দূর হবে।
দ্বিতীয়ত, গৃহঋণের সুদের উপর করছাড় বর্তমানে শুধু স্ব-অধিকৃত সম্পত্তির জন্যই প্রযোজ্য। এই সুবিধাটি যেন ভাড়া দেওয়া সম্পত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। অনেক করদাতা TDS বা TCS-এর রিফান্ড পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই কমিটি চায় এই রিফান্ড প্রক্রিয়া যেন আরও দ্রুত, সহজ এবং স্বচ্ছ হয়।
CBDT বা কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড জানিয়েছে, “সহানুভূতির সঙ্গে প্রয়োগ” নামক নীতির অধীনে নতুন নিয়ম তৈরি করা হচ্ছে। এর প্রধান লক্ষ্য হল সৎ করদাতাদের হয়রানি কমানো।
এবার দেখে নেওয়া যাক নতুন আয়কর আইনে কী কী বদল আনা হয়েছে :-
কর ফেরতের উপর ছাড় :- করদাতারা দেরিতে রিটার্ন দাখিল করলেও রিফান্ড দাবি করতে পারবেন।
দেরিতে টিডিএস দাখিলের জন্য কোনও আর্থিক জরিমানা হবে না।
নীল-টিডিএস সার্টিফিকেট :- যেসব করদাতার কর দায় নেই, অর্থাৎ তাঁরা আয়কর দেন না, তাঁরা অগ্রিম ‘নীল সার্টিফিকেট’ দাবি করতে পারবেন। এটি ভারতীয় এবং অনাবাসী করদাতা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কমিউটেড পেনশন :- নির্দিষ্ট করদাতাদের জন্য কমিউটেড পেনশন, এককালীন পেনশন পেমেন্টের জন্য একটি স্পষ্ট (পূর্ববর্তী খসড়ায় এটির একটি অন্তর্নিহিত উল্লেখ ছিল) কর ছাড় থাকবে। এটি জীবন বিমা পেনশন তহবিলের মতো নির্দিষ্ট তহবিল থেকে পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আন্তঃ কর্পোরেট লভ্যাংশ :- আন্তঃ কর্পোরেট লভ্যাংশের জন্য কর্তন, অর্থাৎ, অন্য কোম্পানির শেয়ার থেকে একটি কোম্পানি যে লভ্যাংশ পান, 80M ধারার অধীনে পুনর্বহাল করা হয়েছে। নতুন আয়কর আইনের প্রথম খসড়ায় এই নিয়মটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই বাদ দেওয়ার ফলে বহুস্তরীয় কোম্পানি কাঠামোতে দ্বৈত কর ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
নতুন কর ব্যবস্থায় প্রস্তাবিত নতুন আয়কর স্ল্যাবগুলিতে আয়করের মৌলিক ছাড়ের সীমা বর্তমান সীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
সম্পত্তি করের স্পষ্টীকরণ :- বাড়ির সম্পত্তি থেকে আয়ের উপর কর গণনা করার জন্য, ২১ ধারা অনুসারে নির্ধারিত ৩০ শতাংশে স্ট্যান্ডার্ড কর্তন নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পত্তি কেনা, নির্মাণ, মেরামত ইত্যাদির জন্য ধার করা মূলধনের উপর নির্ধারিত সুদও কর্তন করা হবে।
পুরনো আইন অনুসারে, ভাড়া সম্পত্তি যদি পুরো বছর বা আংশিকভাবে খালি থাকে, তাহলে বাড়ির বার্ষিক মূল্য (যার উপর কর গণনা করা হবে) ‘যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশিত ভাড়া’ বা প্রাপ্ত প্রকৃত ভাড়া (বছরের আংশিক সময়ের জন্য) এর উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হত।
অর্থমন্ত্রী নির্মকা সীতারামন সংসদে বলেন, “নতুন বিলের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও করদাতাবান্ধব করা সম্ভব হবে। এতে সময় সাশ্রয় হবে।বাড়বে প্রশাসনিক দক্ষতা।”
বিরোধী দলগুলো সরকারের এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে। ওয়েলে নেমে বিরোধি সাংসদরা প্রতিবাদ করেন। অধ্যক্ষকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অধিবেশন মুলতুবি করার আহ্বান জানান।
❤ Support Us








