- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- অক্টোবর ১২, ২০২৫
হিরণবালা। পর্ব ২৪
সত্য ছেলেবেলা থেকেই শান্তশিষ্ট । কম কথা বলা মানুষ । হিরণ যতই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নানা কথা জানতে চায়, তেমন কোনো কথাই ও বলে না...তারপর
অলঙ্করণ : দেব সরকার
৪২
এতদিন পরে সত্যর লেখা চিঠির উত্তরে দাদার চিঠি এসেছে। সত্য চিঠি লিখেছিল দাদাকে। দাদা সেই চিঠির উত্তর দিয়েছে হিরণকে। চিঠিটা পড়ে কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকে হিরণ। দাদা লিখেছে :
কল্যাণীয়াসু হিরণ,
সত্যর চিঠি পাইয়াছি। নানা কাজে ব্যস্ত ছিলাম বলিয়া উত্তর দিতে বিলম্ব হইল।
সত্য চাকরি পাইয়াছে এই খবর পাইয়া খুশি হইয়াছি। তোমার পরিবার এই দেশে প্রতিষ্ঠিত হউক ইহা আগেও চাহিয়াছি, এখনও চাই। সত্যকে আমার আশীর্বাদ দিও।
এক্ষণে তোমাকে কিছু কথা বলা জরুরি মনে করিতেছি। এদেশে তোমরা পা দেওয়া ইস্তক আমার পক্ষে তোমাদিগকে যতখানি সাহায্য, সমর্থন দেওয়া সম্ভব, তাহা দিয়াছি। কিন্তু ইহার বদলে যেটুকু সম্মান তোমাদিগের নিকট আশা করিয়াছি, তাহা পাই নাই। এই অনুভূতি আমার প্রথম হইয়াছিল গীতার বিবাহ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়া দেখিয়াছিলাম আমরা তোমাদিগের পর হইয়া গিয়াছি। আর পর হইয়া গিয়াছে আপন। একবার ইহা বিবেচনা করিয়া দেখিও, গীতার বিবাহ সম্পন্ন হইত না আমি তোমাকে টাকা ধার না দিলে। অথচ অন্য সমস্ত কাজ সময়ে সম্পন্ন করিলেও সেই টাকা দিতে তুমি অযথা বিলম্ব করিয়াছ।
সত্যকে আশীর্বাদ করিলাম ঠিক। কিন্তু, এই দুঃখ আমার যাইবে না যে, চাকুরি প্রাপ্তির সংবাদ সে নিজে আসিয়া আমাকে দিল না। একটি চিঠি লিখিয়াই কর্তব্য সারিল। যা আমি সত্যই তোমাদিগর কাছ হইতে আশা করি নাই।
ভালো থাকিও।
আশীর্বাদ লইও
ইতি দাদা
অভিমান আছে এই চিঠিতে। ক্ষোভ আছে। হিরণের এখন মনে হচ্ছে, জোর করেই ওর উচিত ছিল সত্যকে হাওড়ায় পাঠানো। সে সময়টায় এতখানিই চাপ ছিল এবং এত অল্প সময়ের নোটিশের সত্যকে চাকরিতে জয়েন করতে হয়েছিল যে, একবার সত্যকেও বলেছিল বটে হাওড়া যাওয়ার কথা কিন্তু তারপর আর তেমন জোর দিতে পারেনি। সত্য হয়তো মাইমার সঙ্গে ওর সম্পর্ক খুব ভাল ছিল না বলে হাওড়া যেতে চায়নি। দাদার টাকাটুকু দিতেও দেরি হয়েছে এটাও ঠিক। কিন্তু গীতার দায়িত্ব না নিয়ে সে সময় ওর অন্য কোন উপায় ছিল না। সবচেয়ে দুঃখ পাচ্ছে হিরণ এটা ভেবেই যে দাদার মনে হয়েছে গীতার বিয়েতে দাদাদের ও যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। তা ঠিক যে সুরেন গোসাই আর গোবিন্দর বন্ধুদের ওপরে ওকে অনেকখানি নির্ভর করতে হয়েছিল। কিন্তু তার মানে দাদাদের গুরুত্বহীন করতে তো ও চায়নি। কত ছোটো ছোটো বিষয় থেকে যে কত বড়ো বড়ো ফাটলের সৃষ্টি হয় ভেবে বেশ দুঃখই পেল হিরণ। এই চিঠি পড়ে ও বেশ বুঝতে পারছে যে, দাদার সঙ্গে ওর সম্পর্ক আর কোনোমতেই আগের জায়গায় ফিরে যাবে না। তিন ভাইবোনের মধ্যে এক দিদির সঙ্গে ওর আর কোনো যোগাযোগই নেই। ছোটোবোন লাবণ্যর কাছে বিপদে আশ্রয় খুঁজবে কি উলটে লাবণ্যর জন্য ও নিজেই এক আশ্রয়। আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে সত্যি বলতে কি, বটগাছের মতো ছিল তো দাদাই। সেই গাছের ছায়াও যে মাথার ওপর থেকে আস্তে আস্তে সরে যেতে বসেছে স্পষ্ট বুঝতে পারছে হিরণ। ও বুঝতে পারছে যে, বাকি জীবনটুকুতে দাদার সাহায্য আর তেমনভাবে পাওয়া যাবে না। ওদের সম্পর্কে সত্যিই একটা ধাক্কা লেগেছে। এই ধাক্কা কাচের গ্লাসে লাগা ধাক্কা নয় যে, গ্লাসখানাই ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়েছে। কিছুদিন হল বাজারে এসেছে প্লাস্টিকের গ্লাস। এই ধাক্কা যেন সেই প্লাস্টিকের গ্লাসে লাগা ধাক্কা। যে-ধাক্কা গ্লাসটায় এক ফাটল তৈরি করেছে। গ্লাসটা পুরো ভেঙে পড়েনি কিন্তু চিড়টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যে-চিড় আর কোনোদিনই মুছে ফেলা যাবে না, অনেকটা ঠিক দেশভাগের মতোই।
৪৩
সুরেন গোঁসাই সত্যর জন্য প্রথম যে-সম্বন্ধটা আনল সেটাই বেশ পছন্দ হয়েছে হিরণের। মেয়েটির নাম মঞ্জুশ্রী গুহরায়। বাড়ি কলকাতার টালিগঞ্জের রানিকুঠিতে। সুরেন গোঁসাই একখানি ছবি এসে এনেছে পাত্রীর। রোগা গড়নের মেয়েটি দেখতে খারাপ নয়। সামনের দাঁত দু-খানি অল্প উঁচু। তবে তাতে সৌন্দর্য কমেনি। মেয়েটির বাবার নাম জীবন গুহরায়। আদি বাড়ি ঢাকা। উদ্বাস্তু হিসেবেই এদেশে এসে প্রথমে ছিলেন নেতাজিনগর কলোনিতে। তারপরে বাড়ি বানিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে আছেন টালিগঞ্জের রানিকুঠিতে। সেখানে এক বিরাট বাড়িতে ওদের জ্ঞাতিগোষ্ঠীরা সকলেই থাকেন। একসঙ্গেই দেশছাড়া হয়েছে পুরো পরিবার। মেয়েটি খুবই ঘরোয়া, গৃহকর্ম নিপুণা। মাধ্যমিক পাস। পড়াশুনো জানা। গানের গলাও বেশ ভালো। এ সবই সুরেন গোঁসাই বলেছে। মেয়েটি যে শান্ত, ছবি দেখে তা বোঝাই যাচ্ছে। মেয়েটির বড়ো দিদির বিয়ে হয়েছে এক জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে। ওরা পাঁচবোন। মেয়েটি মেজ।
সম্বন্ধটা পছন্দ হওয়ায় হিরণ ঠিক করল বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে সত্যর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলতে হবে। এক্ষুনি বিয়ে করতে সত্য রাজি হবে কি না ও জানে না। সত্যর যা হাবভাব, চালচলন তাতে মনে হয় রাজি না হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। আসলে সত্যর অনুমতি না নিয়েই ও পাত্রী দেখতে বলেছিল সুরেন গোঁসাইকে। ভেবেছিল ভালো পাত্রী হলে, মেয়েটি দেখতে সুশ্রী হলে, সত্যকে রাজি করানো সহজ হবে।
বাইরের পৃথিবী হয়তো সত্যকে কানাই বলে। একটি চোখ না থাকলে মানুষকে তো কানাই ডাকে লোকজন। হয়তো সত্যকেও কানা ডাক শুনতে হয়েছে। তাই মনের ভেতরে জমে রয়েছে এতখানি দুঃখ। তাই বিয়ের কথা শুনেই ও বলছে পাত্রীকে আগে জিজ্ঞেস করতে যে, সে কানা ছেলেকে বিয়ে করবে কি না
স্কুলে এখন গরমের ছুটি পড়েছে। সত্য তাই রামসাগরেই আছে। সত্য চাকরি পাওয়ার পর থেকে রামসাগরে এলেই খবরকাগজ কেনে। হিরণ দেখল একটা মোড়ার ওপর বসে এক মনে খবরকাগজ পড়ছে সত্য। হিরণ ওর পাশে গিয়ে ওর চুলে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, একখান কথা কমু ?
সত্য বলল, কও।
হিরণ বলল, সুরেন গোঁসাই তোর একখান সম্বন্ধ আনসে। দেখবি নাকি একবার পাত্রীর ছবিখান ?
খবরকাগজ থেকে মুখ না তুলেই সত্য বলল, আমারে পাত্রীর ছবি দেহানোর আগে, পাত্রীরে আমার ছবি দেহাও। জিগাও সে কানা ছেলেরে মালা দেবে কি না।
সত্যর কথা শুনে বুক ছ্যাঁৎ করে উঠল হিরণের। নিজেকে কানা বলছে সত্য ? এভাবে তো কোনোদিন ভাবেনি হিরণ। সত্যর একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেছে সেই কবে। সেজন্য কখনও তো সত্যকে ওর কানা মনে হয়নি। এরকম ভাবার পরে ওর মনে হল, একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেছে তাতে হয়তো ওর কিছুই যায় আসে না। কিন্তু, বাইরের পৃথিবী হয়তো সত্যকে কানাই বলে। একটি চোখ না থাকলে মানুষকে তো কানাই ডাকে লোকজন। হয়তো সত্যকেও কানা ডাক শুনতে হয়েছে। তাই মনের ভেতরে জমে রয়েছে এতখানি দুঃখ। তাই বিয়ের কথা শুনেই ও বলছে পাত্রীকে আগে জিজ্ঞেস করতে যে, সে কানা ছেলেকে বিয়ে করবে কি না। সত্যি কথা বলতে কি, হিরণের এখন মনে হল, সুরেন গোঁসাইকে তো সত্যর কোনো ছবি দেয়নি ও। সুরেন গোঁসাই পাত্রীদের বাড়িতে বলেছে তো ছেলেটির একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে অ্যাক্সিডেন্টে ? কিন্তু এসব কথার কোনটাই হিরন সত্যকে বলল না। ও বরং ছেলেকে বলল, কে কয় তোরে কানা ?
সত্য বলল, প্রবোধ দিও না মা। কানারে লোকে কানা কইবই।
হিরণ বুঝতে পারে, একটা চোখ না থাকা নিয়ে মনের অনেক গভীরে দুঃখ বাসা বেঁধে আছে সত্যর। তাই ও একথা বলছে। আর মনে হল কথাটা ও খুব ভুল বলছে না। সুরেন গোঁসাইয়ের সত্যিই পাত্রীর বাড়িতে জানানো উচিত যে, পাত্রর একটি চোখ নেই। এই তথ্য গোপন করে বিয়ের ব্যাপারে এগনো একেবারেই উচিত হবে না।
সুরেন গোঁসাই কালই আসবে পাত্রী ওদের প্রাথমিকভাবে পছন্দ হয়েছে কি না জানতে। তারপরেই ও দেখাশোনোর কাজ এগোবে। তখনই সুরেন গোঁসাইকে এই বিষয়টা নিয়ে যা বলার, বলবে হিরণ।
সুরেন গোঁসাই এলে হিরণ বলল, আপনে কি পাত্রীর বাড়িতে কইছেন সত্যর একখান চোখ নাই?
সুরেন গোঁসাই বলল, না, তা বলিনি। আর শুনুন, পুরুষ হল সোনার আংটি, বাঁকা হলেও ক্ষতি নেই।
এই কথাটা হিরণ ওর মাকেও বলতে শুনত। তখনও খুব রেগে যেত। আজও খুব রেগে গেল। বলল, তা হয় ক্যামনে? একজন মাইয়া একজন পুরুষের লগে সারা জীবনের জন্য থাকব, তারে জানাইমু না পাত্রটির একটি চোখ নাই?
সুরেন গোঁসাই বলল, আমি পাত্রীপক্ষকে যতটুকু চিনেছি, সত্যর একটি চোখ না-থাকা কোনো সমস্যাই হবে না।
হিরণ এবার বেশ দৃঢ় গলায় বলল, আপনে ওদের আগে জানান যে, সত্যর একটি চোখ নাই। মিথ্যার ওপর কোনো সম্পর্ক খাড়া হয় না।
৪৪
সুরেন গোঁসাই ঠিকই বলেছিল। সত্যর একটা চোখ না থাকা এই সম্বন্ধের ক্ষেত্রে কোনো বাধাই হল না।
হিরণের সঙ্গে ঘোঁতন, সত্য আর গোরাচাঁদ আজ এসেছে পাত্রী দেখতে। হাওড়া স্টেশনে নেমে সেখান থেকে বাসে করে এসেছে রানিকুঠি। সুরেন গোঁসাই আসতে পারেনি। কিন্তু একটা ম্যাপ দিয়েছে তাতে রাস্তা একে একে বুঝিয়ে দিয়েছে কী করে পৌঁছতে হবে জীবন গুহরায়দের বাড়িতে।
বাড়িটা বিরাট বড়ো। দোতলা বাড়িতে ভাগাভাগি করে জীবন গুহরায়ের তিন ভাইয়ের পরিবার থাকে। সবাই মিলে একসঙ্গেই এই বাড়ি বানিয়েছে। থাকে একসঙ্গে কিন্তু রান্নাঘর সবার আলাদা আলাদা। জীবন গুহরায় মনোরঞ্জনের মতোই একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। দোহারা চেহারা। কথাবার্তায় খুব স্পষ্ট। বাইরের ঘরে হিরণরা বসবার পরেই তিনি সোজাসুজি বললেন, দ্যাহেন দিদি, পণ দেওনের ক্ষমতা আমার নাই। তবে মাইয়ারে আমি সাজাইয়া দিমু। এই কথাখান প্রথমেই কইয়া লওয়া জরুরি।
হিরণ বলল, পণ লওনের প্রশ্নই নাই। আমাগো দাবিদাওয়া কিসু নাই। ছেলে চাকরি করে। পণ লাগব কীসে?
কথাবার্তা একটু গড়াবার পর মঞ্জুশ্রী এল। ছিপেছিপে রোগা গড়ন। মুখে সত্যিই একটা আলগা শ্রী আছে। হিরণরা কোনো কথা বলার আগেই জীবন গুহরায় বললেন, ওদের একখান গান শুনাইয়া দাও তো মা। লতা মঙ্গেশকরের সেই গানটা।
মঞ্জুশ্রী মিহি রিনরিনে গলায় গাইতে শুরু করল, যারে, যারে উড়ে যারে পাখি…
হিরণের মনে হল গান মেয়েটি চমৎকার গায়। গান শেষ হলে ও বলল, বাহ, চমৎকার গাইসো।
মঞ্জুশ্রী কিছুই বলল না। মুখ নীচু করে বসেই রইল। জীবন গুহরায় বললেন, আপনাগো যা যা জিগানের আছে, জিগাই লন।
ততক্ষণে মঞ্জুশ্রীর মা, বড়দি আর আর এক বোন ওদের খাবার-দাবার সব নিয়ে ঢুকেছে ঘরে। মঞ্জুশ্রীর মা বললেন, মাইয়া আমার গৃহকর্মে একেবারে নিপুণা। সব কাম পারে।
হিরণ সত্যকে বলল, আমার কিছু জিগানের নাই। তর কিছু থাকলে, জিগাই ল।
সত্য একটিই প্রশ্ন করল, আমি চাকরি করি এক্কেবারে গাঁয়ে। গ্রামে যাইয়া থাকতে পারবেন আপনে? হে গ্রাম কিন্তু এক্কেবারে গ্রাম। কলকাতার মতো নয়।
মঞ্জুশ্রী ঘাড় কাত করে বলল, হ, পারুম।
যেভাবেই হোক দাদাকে রাজি করিয়ে অভিমান ভাঙিয়ে হাজির করতে হবে সত্যর বিয়েতে আর মনোরঞ্জনদের বাড়িতে জানিয়ে দিতে হবে নির্মলার কথা। দুটো কাজই সোজা নয়, কঠিন। কিন্তু এই জীবনে কত কঠিন কাজই তো এখনও পর্যন্ত সহজেই করে ফেলেছে হিরণ
প্রথম সম্বন্ধেই বিয়ে ঠিক হয়ে গেল সত্যর। সত্য যে-প্রশ্নটা মঞ্জুশ্রীকে করেছিল, সেই একই প্রশ্ন হিরণের মাথাতেও ঘুরপাক খাচ্ছিল। কলকাতা শহরেই জন্ম হয়েছে যে-মেয়ের, সেই মেয়ে গ্রামে গিয়ে থাকতে পারবে কি না। কিন্তু, মঞ্জুশ্রী ‘হ্যাঁ পারব’ বলার পরে জীবন গুহরায় এবং ওঁর স্ত্রী বারবার ওদের আশ্বস্ত করলেন এই বলে যে, কলকাতায় বড়ো হলেও ওদের মেয়ের জীবন কেটেছে খুবই সাধারণ ভাবে। গ্রামে গিয়ে মানিয়ে নিতে কোনোই অসুবিধে হবে না।
আবার একটা বড়ো কাজের দায়িত্ব এসে পড়ল হিরণের ঘাড়ে। এবার দুটো জিনিস ওকে করতে হবে। যেভাবেই হোক দাদাকে রাজি করিয়ে অভিমান ভাঙিয়ে হাজির করতে হবে সত্যর বিয়েতে আর মনোরঞ্জনদের বাড়িতে জানিয়ে দিতে হবে নির্মলার কথা। দুটো কাজই সোজা নয়, কঠিন। কিন্তু এই জীবনে কত কঠিন কাজই তো এখনও পর্যন্ত সহজেই করে ফেলেছে হিরণ। ওর মনে হল এই দুটো কাজ ও করতে পারবে।
কলকাতা থেকে ট্রেনে ফেরার সময় মনে হল সবচেয়ে খুশি হয়েছে ঘোঁতন। দেখাশোনা শেষ হওয়ার পরই মঞ্জুশ্রী ঘোঁতনকে নিয়ে চলে গিয়েছিল ভেতরের ঘরে। সেখানে নাকি মঞ্জুশ্রী অনেক কথা বলেছে ঘোঁতনের সঙ্গে। দিয়েছে চকলেট। সারা রাস্তা হবু মামীর গল্প করতে করতেই বাড়ি ফিরল ঘোঁতন। ঘোঁতনের সঙ্গে মঞ্জুশ্রীর প্রথম দিনই এই বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়ায় একটু স্বস্তি পেল হিরণ। কারণ, গীতার পরিবারের যা অবস্থা তাতে ও নিশ্চিত হয়েছে যে, সারা জীবন ঘোঁতনের দায়িত্ব ওকেই নিতে হবে। তাই মঞ্জুশ্রীর সঙ্গে ঘোঁতনের সদ্ভাব হওয়াটা খুব জরুরি ছিল। সেটা হওয়ায় হিরণ খুব খুশি। সব দিক থেকেই ওর মনে হল সত্যর জন্য একেবারে যোগ্য পাত্রী নির্বাচন করা হয়েছে।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
ক্রমশ..
আগের পর্ব পড়ুন: হিরণবালা । পর্ব ২৩
❤ Support Us








