Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • মার্চ ১৬, ২০২৬

সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার ঘোষণা। বাংলার থেকে সম্মানিত কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসমীয়ায় দেবব্রত দাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার ঘোষণা।  বাংলার থেকে সম্মানিত কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসমীয়ায় দেবব্রত দাস

দীর্ঘ অপেক্ষা আর বিতর্কের পর অবশেষে ঘোষিত হয়েছে ঐতিহ্যবাদী সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার ২০২৫-এর বিজয়ীদের নাম। সোমবার অকাদেমি ঘোষণা করেছে যে, এবারে ২৪টি ভারতীয় ভাষার লেখক, কবির সাহিত্যকর্মকে সম্মান জানানো হয়েছে। এবছর মোট ২৪টি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি কবিতার বই, ৪টি উপন্যাস, ৬টি ছোটগল্পের সংকলন, ২টি প্রবন্ধ, ১টি সাহিত্য সমালোচনা, ১টি আত্মজীবনী এবং ২টি স্মৃতিকথা।

অকাদেমি জানিয়েছে, নির্বাচিত জুরি সদস্যরা প্রতিটি সাহিত্যকর্মের গভীরতা, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক প্রাসঙ্গিকতাকে বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করেছেন। পরে অকাদেমি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছরের পুরস্কার তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ইংরেজি ভাষার উপন্যাস ‘ক্রিমসন স্প্রিং’ এর লেখক, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নাভতেজ সরনা। হিন্দি ভাষার স্মৃতিকথা ‘জিতে জি এলাহাবাদ’ স্মৃতিকথার জন্য মমতা কালিয়া পুরস্কৃত হচ্ছেন। উর্দুতে ‘সফর জারি হ্যায়’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রীতপাল সিংহ বেতাব পুরস্কার পাচ্ছেন। বাংলার কবিতা জগতে অবদান রাখায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় পুরস্কৃত হয়েছেন তাঁর কবিতার সংকলন ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’-র জন্য। গুজরাটিতে যোগেশ বৈদ্য ‘ভাত্তাখাদকি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। সংস্কৃতে ‘প্রস্থানচতুষ্টয়ে ব্রহ্মঘোষঃ’ কাব্যগ্রন্থের জন্য মহামহোপাধ্যায় সাধু ভদ্রেশদাস সম্মানিত হয়েছেন।

বাংলা ভাষার জন্য পুরস্কৃত হওয়া প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণার পর সাহিত্য মহলে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়েছে। সাতের দশকের অন্যতম প্রধান কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এ সম্মান পাচ্ছেন ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থের জন্য। তাঁর জন্ম ১৯৫৬ সালে। কবিতার জগতে ‘উত্তর কলকাতার কবিতা’-র কবি হিসেবে পরিচিত প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বছর ধরে বাংলা কবিতা চর্চার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘বালি ও তরমুজ’ (১৯৮৩), ‘উন্মেষ গোধূলি’ (১৯৯৬), ‘বঙ্গীয় চতুর্দশপদী’ (২০০২), ‘উত্তর কোলকাতার কবিতা’ (২০০৫), ‘গুপ্ত দাম্পত্য কথা’ (২০০৮), ‘আনন্দ ভিখিরি’ (২০০৮), ‘গুপ্ত দাম্পত্য কথা: পুং ও স্ত্রী পক্ষ’ (২০১৪), ‘উপাদানকারণ’ (২০১৫) ইত্যাদি।

সমকালীন অসমীয়া কথাসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম সাহিত্যিক দেবব্রত দাস। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপন্যাস ও গল্প রচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, গ্রামীণ সমাজের বাস্তবতা এবং উত্তর–পূর্ব ভারতের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের নানা দিক ফুটিয়ে তুলছেন। ভাষার স্বাভাবিকতা ও বাস্তবধর্মী বর্ণনার জন্য তিনি পাঠকমহলে বিশেষ পরিচিত। তাঁর লেখা গধূলিৰপৰা গধূলিলৈ (১৯৮৩) মধ্যান্তৰ (১৯৯৩)পুতলা নাচৰ সাধু (১৯৯৫) ‘ধূসৰতাৰ কাব্য’ (২০০৫, অৰ্পিতাৰ এৰাতি (১৯৮১), হয়তোবা ভেশ্ছন আৰু অন্যান্য গল্প (১৯৮৭), অৰ্পিতাৰ অন্য এৰাতি (১৯৯২), বিষয় মূলত: প্ৰেম (১৯৯৫), নিৰ্মালীৰ প্ৰেম ( ২০০২), ৰাতিপুৱালৈ (২০১১), ৰাজহাঁহৰ গান (২০২২)মৃগয়া, নিঠুৰ মৃগয়া (১৯৯৩), গান, গোলাপ আৰু কাঁইটৰ কথা (১৯৯৩), দূৰলৈ নেযাবা কাবেৰী (১৯৯৩), দুৱাৰদলিৰ সময় (১৯৯৩), সপোনৰ দৰে দিঠকৰ দৰে ( ১৯৯৫) সুপঠিত পাঠক মহলে। এবার তাঁর উপন্যাস ‘করহি খেলাৰ সাধু’-এর জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন। এই উপন্যাসে সমকালীন সমাজবাস্তবতা ও মানবজীবনের নানা টানাপোড়েনকে গভীরভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

বোড়ো ভাষার উপন্যাস ‘ডুংগনি লামা মুন্সে গাথোউন’ এর জন্য সাহাইসুলি ব্রাহ্মা পুরস্কৃত হয়েছেন। ওড়িয়ার কবি গিরিজাকুমার বালিয়ার সিং ‘পদপুরাণ’ সংকলনের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। মণিপুরিতে হাওবাম নলিনী ছোটগল্প সংকলন ‘কংলামদ্রিবা এফুত’ এবং নেপালিতে প্রকাশ ভট্টারাইয়ের “নেপালি পরম্পরিক সংস্কৃতি রা সভ্যতা কো দুকুটি’ সম্মান পাচ্ছে। কন্নড়ে অমরেশ নুগাদোনির ছোটগল্প সংকলন ‘দাদা সিরিসু তান্দে’, মলয়ালমে এন. প্রভাকরণের উপন্যাস ‘মায়ামানুষ্যর’, তামিল ভাষায় সা. তামিলসেলভন ‘তামিজ সিরুকথাইয়িন থাদাঙ্গাল’ পুরস্কৃত হয়েছে। তালিকায় র‍য়েছে মারাঠি ভাষায় লেখা রাজু ভাবিস্কারের ‘কল্যানিল্য রেষা’, পাঞ্জাবিতে লেখা জিন্দার ‘সেফটি কিট’, রাজস্থানি ভাষায় জিতেন্দ্র কুমার সোনি ‘ভরখমা’ এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সাহিত্য অকাদেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পুরস্কার শুধুমাত্র লেখকদের স্বীকৃতি নয়, এটি ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।’ পুরস্কারপ্রাপ্তরা জানান, ‘এ সম্মান আমাদের আগামীর সাহিত্যচর্চার নতুন প্রেরণা জোগাবে।’ অকাদেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরস্কারপ্রাপ্তরা একটি খোদাই করা তামার প্লেক সম্বলিত কেসকেট, একটি শাল এবং এক লক্ষ টাকা নগদ পাবেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ, নয়াদিল্লিতে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!