Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৯, ২০২৬

বিদ্রোহী দলে এবার নাম লেখাচ্ছেন অভিষেকের ‘সেনাপতি’ সায়নী ঘোষ ? দিল্লি দরবারে ব্যাপক জল্পনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিদ্রোহী দলে এবার নাম লেখাচ্ছেন অভিষেকের ‘সেনাপতি’ সায়নী ঘোষ ? দিল্লি দরবারে ব্যাপক জল্পনা

দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, লোকসভায় শুরু হয়েছে তথাকথিত অপারেশন লোটাস। পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙনের আশঙ্কা ঘনীভূত হয়েছে। সূত্রের দাবি, সোমবার এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র কাছে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের একদল বিদ্রোহীসাংসদ।

এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। সূত্রের খবর, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতিহিসেবেই পরিচিত সায়নীও না কি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পথে। বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত দলীয় কমিটিতে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বামপন্থী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত সায়নী একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচক ছিলেন। পরবর্তীতে মমতার হাত ধরেই সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে তাঁর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন তিনি। ধীরে ধীরে তাঁর রাজনৈতিক ও জনসম্মুখের উপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাদা শাড়ি ও হাওয়াই চটিএই পরিচিত সাজে অনেকেই তাঁকে মমতার রেপ্লিকাবলেও উল্লেখ করেছেন।

তবে রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি বিতর্কও পিছু ছাড়েনি সায়নীর। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর শেয়ার করা একটি পোস্ট একসময় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সে সময় অবশ্য দলের পক্ষ থেকে তাঁর সমর্থনেই অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সায়নীর নামই শোনা যাচ্ছে বেসুরোসাংসদদের তালিকায়।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদব-এর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। বৈঠকের পরই তাঁরা স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেন বলে সূত্রের দাবি। জানা যাচ্ছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মোট ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮। সেই হিসাবে দলের অধিকাংশ সাংসদই বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, লোকসভার রাশ কি এবার আসল তৃণমূল’-এর হাতেই চলে যাচ্ছে?

জল্পনা আরও উসকে দেয় দিনের শেষে হওয়া আরেকটি বৈঠক। বীরভূমের চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায়-এর দিল্লির বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেও দাবি করা হয়েছে। ই বৈঠকের পর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছেলোকসভার পর কি এবার রাজ্যসভাতেও দেখা যাবে অপারেশন লোটাস’-এর প্রভাব? যদিও বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, এটি ছিল শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ও চা-চক্রের আড্ডা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!