- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৮, ২০২৫
সুপ্রিম ‘ইউ-টার্ন’, বিচারপতি প্রশান্ত কুমারকে নিয়ে বিতর্কিত আদেশ প্রত্যাহার
সুপ্রিম আদালত নিজেই ফিরিয়ে নিল বিতর্কিত আদেশ। বিচারপতি প্রশান্ত কুমারকে ফৌজদারি মামলা শোনার থেকে আজীবনের জন্য বিরত রাখার নির্দেশ যাঁদের কলম থেকে বেরিয়েছিল, তাঁরাই জানালেন— ‘আমরা এ বিষয়টি এখানেই শেষ করলাম।’ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং আর মহাদেবন জানিয়ে দেন, বিচারপতি প্রশান্ত কুমারকে নিয়ে তাঁদের আগের রায় ‘পুনর্বিবেচনা’ করে তাঁরা তা প্রত্যাহার করছেন। কারণ? দেশের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের উত্তরসূরি, বর্তমান প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই তাঁদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবনা-চিন্তা করার জন্য।
সে অনুরোধেই এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের। আগের দেওয়া তির্যক মন্তব্যগুলি খারিজ করে জানানো হয়, ‘আমরা আগের রায়ের সংশ্লিষ্ট অংশ বাদ দিচ্ছি এবং বিষয়টি আবার এলাহাবাদ হাইকোর্টে পাঠানো হল। সিদ্ধান্ত নেবেন সেখানকার প্রধান বিচারপতি অরুণ ভানসালি। আমরা হাইকোর্টের প্রশাসনিক কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। বিচারব্যবস্থার সম্মান অক্ষুন্ন রাখতেই এই পদক্ষেপ।’ গত ৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ প্রশান্ত কুমারের মামলা নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের আদেশকে দেশের বিচারব্যবস্থার ‘হাস্যকর’ দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছিল। বেঞ্চ মন্তব্য করেছিল, ‘আমরা হতবাক হয়ে যাই ভাবতে, উচ্চ আদালতে এমন আদেশ কী করে সম্ভব। মাঝে মাঝে মনে হয়, এসব কি কারও প্রভাবে হচ্ছে, না কি নিছক আইনের অজ্ঞতার কারণে! যা-ই হোক, এমন ‘বিকৃত’ এবং ‘ভ্রান্ত’ আদেশ ক্ষমার অযোগ্য।’
প্রশান্ত কুমারের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ভাষার রায় ঘিরে ক্ষোভ জমছিল বিচারব্যবস্থার অন্দরেই। এলাহাবাদ হাই কোর্টের ১৩ জন বিচারপতি তাঁদের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সুপ্রিম কোর্টের এহেন নির্দেশ বিচারকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। সে আবহেই প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে সামনে আসে আজকের সুপ্রিম ‘ইউ-টার্ন’। সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ে পরিষ্কার বলা হয়, তাঁদের উদ্দেশ্য কখনোই কোনো বিচারপতিকে হেয় করা নয়। বরং তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল বিচারব্যবস্থার মান রক্ষা করা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, ‘হাইকোর্ট কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়, তা ভারতের বিচারব্যবস্থারই একটি অংশ। বিচারপতির ভুল থাকতেই পারে, কিন্তু সে ভুল সংশোধনের পথ থাকতেই হবে। আমরা চেয়েছিলাম, আইন নিজের পথে চলুক, সম্মানের সঙ্গে।’ এদিনের সিদ্ধান্তের ফলে মামলাটি ফের পাঠানো হয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্টে। এখন মামলার পরবর্তী শুনানি ও সিদ্ধান্ত নেবেন সেখানকার প্রধান বিচারপতি অরুণ ভানসালি। একইসঙ্গে বিচারপতি কুমারকে নিয়ে আগে দেওয়া সমস্ত মন্তব্য ও নির্দেশ মুছে দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড থেকে।
উল্লেখ্য, আলোচ্য মামলার প্রেক্ষিতে মূল অভিযোগ ছিল একটি দেওয়ানি বাণিজ্যিক লেনদেন ঘিরে। ললিতা টেক্সটাইলস নামে একটি সংস্থা অভিযোগ করেছিল, তারা শিখর কেমিক্যালস নামের কোম্পানিকে ৫২.৩৪ লক্ষ টাকার সুতোর জিনিস সরবরাহ করেছিল, যার মধ্যে ৪৭.৭৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকা মেটানো হয়নি। সে পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে সংস্থাটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করলে, তা খারিজ না করে বরং সমন বহাল রাখেন বিচারপতি কুমার। আর সেখান থেকেই শুরু হয় গোটা বিতর্ক।
❤ Support Us








