Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২০, ২০২৫

‘প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী অপসারণ বিল’ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে ভিন্নমত শশী থারুরের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী অপসারণ বিল’ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে ভিন্নমত শশী থারুরের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রশংসা করার পর থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে থাকা শশী থারুর বুধবার আবার দলীয় অবস্থানের সঙ্গে মতভেদ প্রকাশ করলেন। এইবার ইস্যু, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক অপসারণ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত বিল।

সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল ২০২৫, যেটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে উপস্থাপন করবেন, সেখানে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কোনো মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে জেলে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাকে ইস্তফা দিতে হবে, না হলে বরখাস্ত করা হবে।

এই বিলটির বিরোধিতা করেছে বিরোধীরা, যেখানে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা একে “দমনমূলক” আইন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “কাল আপনি একজন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যেকোনও মামলা দায়ের করতে পারেন, তাঁকে ৩০ দিনের জন্য জেলে পাঠাতে পারেন… এবং তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না? এটি একেবারেই সংবিধান-বিরোধী…”

তবে শশী থারুর এই ইস্যুতে আবারও কংগ্রেসের থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “যদি আপনি ৩০ দিন জেলে থাকেন, আপনি কি একজন মন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন? এটি তো সাধারণ জ্ঞানের বিষয়… আমি এতে কোনও ভুল দেখি না।”

সংসদে বিলটি এখনও উপস্থাপিত হয়নি, বুধবারের বিরোধীদের প্রতিবাদ ও হট্টগোলে অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। এই বিলটি সম্ভাব্যভাবে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হবে।

থারুর বলেন, “বিলটি যদি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হয়, তাহলে তা ভালো বিষয়। আমি মনে করি আমাদের গণতন্ত্রের পক্ষে ভালো যে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। আসুন, সবাই এই বিষয়ে আলোচনা করি।”

সোমবার তিনি আরও বিতর্কের জন্ম দেন, যখন ভারতীয় মহাকাশচারী শোভাংশু শুক্লার বিষয়ে সংসদে হওয়া বিশেষ আলোচনায় কংগ্রেস অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে একপ্রকার খোঁচা দেন।

থারুর-কংগ্রেস সম্পর্ক ২০২১ সাল থেকে অনিশ্চিত, যখন তিনি ‘জি-২৩’ নামে পরিচিত নেতৃত্ব-বিরোধী গোষ্ঠীতে যোগ দেন এবং গান্ধী পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করায় কংগ্রেস অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে যখন মোদী তাঁকে ‘পার্টনার দেশসমূহকে’ পাহলগাম ও অপারেশন সিন্দুর বিষয়ে ব্রিফ করার দায়িত্ব দেন। থারুর স্বীকার করেছেন যে তাঁর ও কংগ্রেসের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য আছে; তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন, কিন্তু তা থেকে বিশেষ কিছু ফল আসেনি।

গত মাসে সংবাদমাধ্যমকে তিনি আবারও দ্বন্দ্বকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে বলেন, “এটি কেবল কিছু নেতৃত্বের সঙ্গে মতের অমিল।”

যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর বর্তমান সম্পর্ক কেমন ধারণা পোষণ করে, উত্তরে তিনি বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে আমি দল ও তার মতাদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকেও অস্বীকার করে সানদাবিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর দলে যোগ দিতে যাচ্ছি — এমন ধারণা মানুষ তৈরি করছেন, তা ঠিক নয়…” — মোদীর “গতি ও গতিশীলতা” নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!