- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- অক্টোবর ২৮, ২০২৫
বাংলা-মুম্বাই পেরিয়ে শার্লক হোমসের দেশে ! কোনান ডয়েলের জীবনভিত্তিক ছবি পরিচালনার দায়িত্বে সৃজিত
টালিগঞ্জের ‘ফার্স্ট বয়’ এবার পা রাখলেন পাশ্চাত্যের সিনেমা দুনিয়ায়। বাংলা, বলিউড, সব জয় করে এবার শার্লক হোমসের দেশে ! লন্ডন থেকেই জানালেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, তিনি পরিচালনা করতে চলেছেন তাঁর প্রথম ইংরেজি ছবি— ‘এলিমেন্টারি, মাই ডিয়ার হোমস’।
ছবির বিষয়বস্তু? শার্লক হোমস–এর স্রষ্টা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল–এর জীবন, টানাপোড়েন এবং বাস্তব জীবনের দুটি অভূতপূর্ব তদন্ত— জর্জ এডালজি ও অস্কার স্লেটার–এর মামলা। ডয়েল, যিনি একদিন কল্পনার গোয়েন্দা তৈরি করেছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে, সেই তিনিই একদিন বাস্তবের আদালতে নিজের সৃষ্ট চরিত্রের মতোই সত্যের সন্ধানে নামেন। সৃজিতের জানিয়েছেন, ‘ছোটবেলায় প্রথম শার্লক হোমসের সঙ্গে দেখা হয়েছিল বইয়ের পাতার নীরবতার মধ্যে নয়, বরং বেকার স্ট্রিটের সজীবতায়। ডয়েল শুধু গল্প লেখেননি, তিনি মানুষকে দেখার নতুন দৃষ্টি শিখিয়েছেন। এত প্রাণবন্ত চরিত্র বিশ্বে আর কখনো কোনো লেখক তৈরি করতে পারেননি। সে কৌতূহলের অ্যানাটমি আমাকে আজও টানে।’
জানা যাচ্ছে, ছবির গল্পের পটভূমি ১৯০৬ সালের লন্ডন ও গ্লাসগো। স্কটল্যান্ডের এক হত্যাকাণ্ড, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত এক নিরপরাধ ব্যক্তি, আর এক সাহিত্যিকের নৈতিক লড়াই— এমন ত্রিভুজের মধ্যে তৈরি হবে ছবির কাহিনি। ডয়েলের জীবনের এ অধ্যায় যেন তাঁরই সৃষ্ট শার্লক হোমসের কাহিনির প্রতিচ্ছবি— যেখানে যুক্তি, মানবিকতা ও ন্যায়বোধ মিলেমিশে রচনা করে এক গভীর রহস্যরোমাঞ্চ। নির্মাতারা বলছেন আসন্ন ছবির পরতে পরতে থাকবে রোমাঞ্চ, কোর্টরুম ড্রামা ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, তবে সে সবই অবশ্য সৃজিতীয় ঢঙে। সমান্তরালভাবে চলবে বাস্তব ও কল্পনার দুই স্রোত, একদিকে ডয়েলের জীবন, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট হোমস–এর প্রতীকী আবির্ভাব। স্রষ্টার জীবনের গল্পেই প্রবেশ করবে তাঁরই সৃষ্টি চরিত্র।
বহুল আলোচিত এই আন্তর্জাতিক প্রকল্পের হাত ধরেছে ব্রিটিশ প্রযোজনা সংস্থা ইনভিজিবল থ্রেড মিডিয়া, যার কর্ণধার শাহনাব আলম। ভারতের পক্ষ থেকে সহ–প্রযোজক সৃজিতের নিজের সংস্থা ম্যাচকাট প্রোডাকশনস। ছবিটি তৈরি হচ্ছে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এস্টেট–এর সহযোগিতায়, যুক্তরাজ্য–ভারত যৌথ প্রযোজনা চুক্তি–র অধীনে। এদিন, ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী গিল্ড হল–এ। উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট–এর আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান অ্যাগনিয়েস্কা মুডি, বোর্ড সদস্য মণিকা চাড্ডা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের চলচ্চিত্র বিভাগের ব্রিওনি হ্যানসেন সহ বিশিষ্টজনেরা। ডয়েল পরিবারের প্রতিনিধি রিচার্ড পুলি ও রিচার্ড ডয়েলও ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। প্রযোজক শাহনাব আলমের জানিয়েছেন, ‘সৃজিতের কাজের পরিসর ও দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক মানের। আমি নিশ্চিত, ‘এলিমেন্টারি, মাই ডিয়ার হোমস’ এক বিশ্বমানের সিনেমা হয়ে উঠবে।’
অন্যদিকে, সৃজিতের জন্য এ প্রকল্প কেবল একটি ছবিনির্মাণ নয়, বরং এক আবেগের যাত্রা। নিজের কিশোরবেলার সাহিত্য–নায়কের স্রষ্টাকে আবিষ্কার করার এক গভীর তাগিদ। পরিচালক বললেন, ‘ডয়েল ছিলেন যুক্তিবাদী। তাঁর জীবনটাই যেন এক রহস্য, যেখানে সত্যের অনুসন্ধান কখনো থামে না।’ তবে আপাতত চিত্রনাট্য ও সম্ভাব্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম গোপনই রাখছেন তিনি। শুধু জানিয়েছেন— শুটিং শুরু হবে আগামী বছর, লন্ডন ও স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে। ডয়েলের মতো, সৃজিত মানেও বিতর্ক, রহস্য। তবে এবার তিনি শুধু রহস্যের গল্প বলছেন না, বলছেন রহস্যের স্রষ্টার গল্প। বাংলা থেকে বলিউড পেরিয়ে এবার সরাসরি লন্ডনের টেমস তীরে, বিশ্ব সিনেমার মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন সৃজিত।
❤ Support Us








