- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- জুলাই ২৮, ২০২৫
বড়োপর্দায় নাচবে মানিকের পুতুলেরা, সুতো হাতে সুমন
চাহিয়া দেখিল… গাছের নিচে পড়ে আছে একখণ্ড শৈশব। পাতা আর ন্যাকড়ার জোটে গড়া এক পুতুল। সেই পুতুলকেই চিনে ফেলল শশী। আর ঠিক সেখানেই থেমে না থেকে শুরু হল এক দীর্ঘ যাত্রা—ক্লাসিক উপন্যাস থেকে রূপোলি পর্দায়। পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় ৯০ বছর আগে লেখা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ সুমন মুখোপাধ্যায়ের ক্যামেরায় অনুবাদ হয়ে আসতে চলেছে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে। যেখানে সমাজ, রাজনীতি, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মানুষের অসহায়তা উঠে আসবে নতুন রূপে।
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘শশী’—এক শিক্ষিত অথচ বিভ্রান্ত মানুষ, যে গ্রামে আটকে পড়ে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় তার। সুমনের মতে, শশী যেন এক ‘ইন্টেলেকচুয়াল ফেলিয়োর’-এর প্রতীক। যে সমাজের, সময়ের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে নীরব থেকেছে, আপোস করেছে। চরিত্রের মনস্তত্ব দিয়ে পরিচালক তুলে ধরেছেন আজকের বুদ্ধিজীবীদের সংশয় ও সমাজে তাদের ভূমিকার প্রশ্ন। শশীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতার মতে, চরিত্রটি অত্যন্ত আত্মমুখী, জটিল এবং সবার মধ্যেই লুকিয়ে থাকা সেই দ্বিধাগ্রস্ত মানুষটিরই প্রতিচ্ছবি। কোভিডের পর আবিরের অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল এটি। কুসুমের চরিত্রে জয়া আহসান। বাংলাদেশি লাবন্যময়ী বলেছেন, তাঁর চরিত্রটি আধুনিক, সর্বকালে, সীমানাবিহীন নারীর সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। দর্শকের কাছে তাঁর অনুরোধ, উপন্যাস নয়, সিনেমার প্রেক্ষিতেই কুসুমকে বিচার করবেন। এ ছবি শুধু সাহিত্যের সেলুলয়েড অনুবাদ নয়। বরং এক গভীর সামাজিক, রাজনৈতিক বীক্ষণের পাঠ। ‘উপন্যাসের মানুষগুলোর কুসংস্কার, দ্বিধা, আটকে পড়া, আর সে সবকিছুই এক রকম রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করে…’ বলছেন সুমন। তাঁর ভাষায়, ‘সমাজের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক অনেক বেশি গূঢ়, অনেক বেশি ব্যক্তিগত।‘
২০০৬ সালেই চিত্রনাট্য তৈরি ছিল। ছিল শ্যুটিং শুরু করার পরিকল্পনাও। কিন্তু একে একে এসে দাঁড়াল কপিরাইট সমস্যা, মিলল না সমমনস্ক প্রযোজক। অবশেষে সমীরণ দাসের আগ্রহ ও উদ্যোগে ২০২২ সালে শেষ হল শ্যুটিং, আর বহু প্রতীক্ষার পর আগামী ১ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। পরিচালকের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিনেমা কোনো ‘স্থবির চিত্রনাট্য’ নয়। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, তাই বদলেছে সিনেমার ভঙ্গিও। ‘উপন্যাসের পুরোটা তো সিনেমায় বলা যায় না। পরিচালক হিসেবে একটা চয়ন থাকে। আমি শশী-কুসুম আর যাদব পণ্ডিতের গল্প বলেছি’– জানালেন সুমন। এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত ইতিহাসও। পরিচালক জানান, তাঁর বাবা অরুণ মুখোপাধ্যায় প্রথম মঞ্চস্থ করেছিলেন ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’। সেই থেকেই অনুপ্রেরণা। যাদব পণ্ডিতের চরিত্রে ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, গোপাল দাসের ভূমিকায় শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, এবং কুমুদের চরিত্রে দেখা যাবে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। সেনদিদির চরিত্রে রয়েছেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। ছবির সঙ্গীত পরিচালনায় প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিটি ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছে ২০২৫-এর রটারড্যাম ফিল্ম ফেস্টিভাল -এর কম্পিটিশন বিভাগে। এই প্রসঙ্গে ধৃতিমান বললেন, ‘এই উপন্যাসটাই এমন এক সময়ের দলিল, যা শতাব্দীর পরেও প্রাসঙ্গিক।’
❤ Support Us








