- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
ওটিটি কনটেন্টে চলবে না সেন্সর কাঁচি। ত্রিস্তরীয় নিয়ন্ত্রণেই চলবে স্ট্রিমিং দুনিয়া, সংসদে জানালো কেন্দ্র
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গেই বিনোদনের অভ্যাসে আমূল বদল এসেছে। সিনেমা হলের গণ্ডি পেরিয়ে দর্শকের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গিয়েছে বিনোদন। সে বদলের সঙ্গেই দ্রুত বেড়েছে ওভার-দ্য-টপ বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের রমরমা বাজার। সিরিজ থেকে শুরু করে রিয়্যালিটি শো, কনটেন্টের বৈচিত্র যেমন বেড়েছে, তেমনই কিছু কনটেন্ট ঘিরে উদ্বেগও দানা বাঁধতে শুরু করেছে, বিশেষত শিশু ও কিশোরদের মানসিক প্রভাব নিয়ে। সে প্রেক্ষিতেই ওটিটি কনটেন্টের উপর সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, তার স্পষ্ট জবাব দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার, লোকসভায় জানিয়ে দেওয়া হলো, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টে কোনও ধরনের সেন্সর প্রয়োগ করতে পারবে না। অর্থাৎ, ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে সেন্সর বোর্ডের ‘কাঁচি’ চলবে না।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, সিবিএফসি গঠিত হয়েছিল সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট, ১৯৫২ অনুযায়ী, যার আওতায় পড়ে কেবলমাত্র প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত চলচ্চিত্র। অন্য দিকে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত কনটেন্ট ডিজিটাল মাধ্যমভুক্ত হওয়ায় তার জন্য পৃথক আইন ও নিয়ম প্রযোজ্য। সরকার স্পষ্ট করেছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে চলতে হবে ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি বিধি মেনে। এই বিধি অনুযায়ী, কনটেন্ট সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস বাধ্যতামূলক। কোন কনটেন্ট কোন বয়সের দর্শকের জন্য উপযুক্ত, তা আগাম নির্ধারণ করেই দর্শকের সামনে আনতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তরফে আরো জানিয়েছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলি নিজেদের দায়িত্বেই কনটেন্ট যাচাই করে সম্প্রচার করবে। অর্থাৎ, প্রাক্-সেন্সরের বদলে থাকবে স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। আইনবিরুদ্ধ, নিষিদ্ধ বা আপত্তিকর কোনো কনটেন্ট প্রকাশ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে সতর্ক করেছিল। তখন স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল, আইনের পরিপন্থী কোনো কনটেন্ট ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, শুধু স্ব-নিয়ন্ত্রণের উপর ভরসা না রেখে, ওটিটি কনটেন্টের উপর নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই একটি তিন স্তরের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে তাদের প্রতিটি কনটেন্ট স্ট্রিম করার আগে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, আইনের সীমার মধ্যে থেকে ডিজিটাল বিনোদনের প্রসার, যাতে দর্শকের স্বাধীনতা বজায় থাকে, আবার সামাজিক দায়িত্বও এড়িয়ে যাওয়া না হয়।
❤ Support Us








