- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৯, ২০২৩
সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে পৌঁছলেন অভিষেক
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ১১টার মধ্যেই সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তাঁকে নোটিশ দিয়ে ইডির দফতরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পৌঁছতে বলেছিল। সঠিক সময়েই অভিষেক ইডির দফতরে পৌঁছে যান। ইডি সূত্রে জানা গেছে অভিষেকেট জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে আজ ইডি জেরা করতে পারে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ইডির কাছে তাদের চাওয়া সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব ছাড়াও বিদেশ সফরের বিস্তারিত তথ্য তখন ইডির তরফে চাওয়া হয়েছিল। চাওয়া হয়েছিল তাঁর নামে থাকা সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের কিছু নথিও। জল্পনা, তৃণমূল সাংসদের জমা দেওয়া সেই সব নথির বিষয়েই আরও বিশদে জানতে চাইবেন তদন্তকারীরা। নথি সংক্রান্ত প্রশ্নের বেশ কিছু না-পাওয়া উত্তর পেতেই সম্ভবত বৃহস্পতিবার অভিষেককে জেরা করা হবে বলে ইডি সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ইডির ডাকে ৯ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছিল অভিষেককে।
আজ অভিষেকের জেরা পর্বে ইন্টারোগেশনে ইডি অফিসার মিথিলেশকুমার মিশ্রও থাকার কথা। তাঁকে এর আগে মিথিলেশ কুমারের কাজের জন্য তাঁকে ভর্ৎসনা করেছিল আদালত। এমনকি, তাঁর নেতৃত্বে যথাযথ তদন্ত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছিল। মিথিলেশকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। পরে অবশ্য তাঁকে ফেরানো হয় অমৃতা সিনহার নির্দেশে। তাই অনুমান করা হচ্ছে, জেরা পর্বে তিনিও থাকতে পারেন। আর মিথিলেশ বা অন্য তদন্তকারী অফিসারদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক যা যা বলবেন, জেরা-কক্ষে থাকা ক্যামেরায় তার সবটাই রেকর্ড হবে।
প্রসঙ্গত, ঠিক দু’মাস আগেই ইডির তলব পেয়ে সিজিও দফতরে এসেছিলেন অভিষেক। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তলব করা হয়েছিল তাঁকে। সে দিন টানা ৯ ঘণ্টা অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। তবে তার পর থেকে আরও দু’বার তলব করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদকে। গত ৩ অক্টোবর এবং ৯ অক্টোবর অভিষেককে সিজিও দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয় ইডির তরফে। অভিষেক অবশ্য দু’দিনই সিজিওতে যাননি। যদিও বৃহস্পতিবার অভিষেক যে ইডির দফতরে যাবেন, সেটা তৃণমূলের তরাপে বুধবারই জানান হয়।
৩ অক্টোবর দিল্লিতে তৃণমূলের ১০০ দিনের কাজের টাকা আদায় সংক্রান্ত ধর্না কর্মসূচি ছিল। অভিষেক চিঠি লিখে জানিয়ে দেন, তিনি ইডির দফতরে যাবেন না। পরে ৯ অক্টোবর তাঁকে আবার ইডি তলব করলে পাল্টা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। হাই কোর্ট সেই আবেদনের শুনানিতে জানিয়ে দিয়েছিল, অভিষেক আগে ইডির চাওয়া নথি জমা দেবেন। সেই নথিতে সন্তুষ্ট না হলে তবেই ইডি তাঁকে ডেকে পাঠাতে পারে। তাই এদিনের তলব সম্ভবত অভিষেকের নথিতে সন্তুষ্ট না হয়েই হল বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ছ’মাসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই নিয়ে ষষ্ঠ বার তলব করা হয়েছে অভিষেককে। এর মধ্যে এক বার সিবিআই এবং পাঁচ বার ইডি অভিষেককে তলব করেছে।
তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, রাজনৈতিক অভিসন্ধি, রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতেই এভাবে অভিষেককে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
❤ Support Us








