Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • জুন ২৮, ২০২৫

মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের ওপর তথ্যচিত্রে এমি জয় বিবিসি–র, দলের সদস্য মিজোরামের দুই সাংবাদিক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের ওপর তথ্যচিত্রে এমি জয় বিবিসি–র, দলের সদস্য মিজোরামের দুই সাংবাদিক

দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত মায়ানমার। গৃহযুদ্ধ চরম পর্যায়ে। অশান্ত মায়ানমারের ওপর একটা তথ্যচিত্র তৈরি করে বিবিসি। বিবিসি–র এই তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ‘‌দ্য এমি’‌ পক্ষ থেকে তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে এই পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছে। এমি পুরস্কার জেতা বিবিসি–র এই তথ্যচিত্রে প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দুই সাংবাদিক এইচসি ভানলালরুয়াতা এবং আইজ্যাক জোরামসাঙ্গা।

সাড়ে ৬ মিনিটের মিনিটের এই তথ্যচিত্রটিতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি জান্তাকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করেছে। এছাড়া ভিন্নমত দমন করতে এবং তরুণদের প্রতিরোধে যোগদান থেকে বিরত রাখতে জান্তার ব্যাপক নির্যাতন, অপহরণ এবং হত্যার ভয়াবহ বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে। বিবিসি–র দল মায়ানমারের বিদ্রোহীদের সদর দফতর থেকে শুরু করে বোমা বিস্ফোরিত গ্রামে পৌঁছয়। ভানলালরুয়াতা এবং জোরামসাঙ্গার সাহায্যে তাঁরা বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের সদর দফতর এবং জান্তা বাহিনীর বোমা হামলায় বিধ্বস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেন।

ভানলালরুয়াতা এবং জোরামসাঙ্গা দুজনই বিবিসি–র এই প্রকল্পে প্রযোজক হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা ভারত লাগোয়া পশ্চিম মায়ানমারের চিন রাজ্যে টানা ১০ দিন ধরে গ্রাউন্ড–জিরো থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন। ভানলালরুয়াতা ও জোরামসাঙ্গার সাহায্যে বিবিসি দল বিরল সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, যেখানে জাতিগত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলি মায়ানমারের সামরিকবাহিনী জান্তার বিরুদ্ধে পিছু হটছে এবং অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এমি–র অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে পুরস্কার ঘোষণা করে বলা হয়েছে, ‘মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের ‌অসামান্য ধারাবাহিক সংবাদ কভারেজের জন্য এমি পুরস্কার দেওয়া হল বিবিসি ওয়ার্ল্ডকে।’‌ মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য সাংবাদিক এইচসি ভানলালরুয়াতা এবং আইজ্যাক জোরামসাঙ্গাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুজনের নিষ্ঠা ও সাহসের প্রশংসা করেছেন। এক্স–এ তিনি লিখেছেন, ‘‌ভানলালরুয়াতা এবং জোরামসাঙ্গাকে অভিনন্দন জানাই তাদের ঐতিহাসিক কৃতিত্বের জন্য, যারা মিজোরাম থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কার জিতেছে একটা দলের অংশ হয়ে। মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের প্রতিবেদনে তাদের নিষ্ঠা এবং সাহস মিজোরামকে গর্বিত করেছে।’‌

এমি পুরস্কারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় গর্বিত ভানলালরুয়াতা। তিনি বলেন, ‘‌আমরা ২০২৪ সালে মায়ানমারের চিন রাজ্যে গিয়েছিলাম এবং ক্যাম্প ভিক্টোরিয়ায় চিন ন্যাশনাল আর্মি (‌সিএনএ)‌ দ্বারা প্রশিক্ষিত বিপ্লবী দলগুলির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। আমরা ক্যাম্প ভিক্টোরিয়ায় এক রাত ছিলাম, তারপর এমন একটা গ্রামে গিয়েছিলাম যেখানে মায়ানমারের সেনাবাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছিল।’‌ জোরামসাঙ্গা বলেন, ‘‌আমরা কতটা রোমাঞ্চিত তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এমি তালিকায় আমার নাম দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’‌ ক্যাম্প ভিক্টোরিয়া হল সিএনএ–র সদর দফতর এবং ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ৭–৮ কিমি দূরে অবস্থিত।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মায়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যখন তাতমাদাও নামে পরিচিত সামরিক বাহিনী একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী অং সান সু চি–র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে। এই অভ্যুত্থানের ফলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ দমনে নৃশংস সামরিক অভিযান চালানো হয়। যা গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠী এবং রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত আরাকান আর্মির মতো জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন সশস্ত্র প্রতিরোধে সামিল হয়।

এরপর মায়ানমারে সশস্ত্র প্রতিরোধ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিদ্রোহীরা চিন রাজ্যের পালেতওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি দখল করেছে এবং জান্তার নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। গৃহযুদ্ধ আরও তীব্রতর হয়েছে। জান্তার ওপর চাপ রয়েছে কিন্তু তারা প্রধান নগর কেন্দ্রগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে গ্রামীণ এবং ভারত সীমান্ত এলাকায় বিদ্রোহীরা প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।‌‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!