- Uncategorized এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১২, ২০২২
কাশ্মীরে তৈরি হবে স্বতন্ত্র পারিবারিক তথ্য ভান্ডার।কাশ্মীরিদের সন্দেহের চোখে দেখছে কেন্দ্র, অভিযোগ বিরোধীদের
পারিবারিক স্বতন্ত্র নথি ঘিরে নতুন বিতর্ক বাঁধল কাশ্মীর উপত্যকায়। রবিবার, কেন্দ্রশাসিত জম্মু কাশ্মীরের অধিবাসীদের জন্য বিশেষ পারিবারিক নথি তৈরির ঘোষণা করেন সেখানকার লেফটেন্যাণ্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। কাশ্মীরের কাটরা জেলায় অনুষ্ঠিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারি সমাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা সুনিশ্চিত করতেই পারিবারিক তথ্য ভান্ডার তৈরি করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
ডিজিটাল জম্মু কাশ্মীর ভিশন ডকুমেন্ট নামক এই সরকারি প্রকল্পের আওতাধীন, ডিজিটাল আলফা নিউমারিক তথ্য ভান্ডারে উপত্যকার স্থায়ী বাসিন্দাদের সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
সরকারি এই ঘোষণায় আঘাত লাগে উপত্যকার বাসিন্দাদের ভাবাবেগ । রাজনৈতিক স্তরেও উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন, এবার কী ব্যক্তিগত পরিসরে নজরদারি চালাতে চাইছে কেন্দ্র? এমনিতেই দেশ জুড়ে নয়া ডিজিটাল আইন এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে চাপা গুঞ্জন চলছেই। সংসদে এই শীতকালীন অধিবেশনেই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নতুন বিলের প্রস্তাব আনতে পারে কেন্দ্র। এমন সময় কেন্দ্রশাসিত কাশ্মীরে, অধিবাসীদের পারিবারিক তথ্য ভান্ডার তৈরির ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অনেকেই মনে করছেন এতে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা যেমন লঙ্ঘিত হতে পারে, তেমনি রাষ্ট্রীয় খবরদারিও বাড়বে । যদিও রবিবার তথ্যভান্ডার তৈরির বিষয়ে জন সম্মতির প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন কাশ্মীরের লেফটেন্যাণ্ট গভর্নর মনোজ সিনহা।
বিজেপি এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও বিরোধীরা সরকারের এমন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে । কংগ্রেস, পিডিপি , ন্যাশনাল কনফারেন্স একযোগে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরব। তাদের বক্তব্য এতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হবে। কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্র শর্মা এমন ডেটাবেসের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন । তাঁর মতে সরকারের কাছে আধার মারফত নাগরিকদের সমস্ত তথ্য ইতিমধ্যেই মজুত রয়েছে । সরকার সেই তথ্যই ব্যবহার করে নাগরিককে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিতে পারে । ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি রতন লাল গুপ্তা ও পিডিপি প্রধান মেহেবুবা মুফতি সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, কাশ্মীরিদের সন্দেহের চোখে দেখছে কেন্দ্র।এই নীতি স্থানীয়দের ভাবাবেগে আঘাত করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মায়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণের জন্য, সেদেশের সামরিক জুন্টা আদাসা কার্ডের প্রচলন করেছিল। সেই পারিবারিক নথিতে, সম্পত্তি, গবাদি পশু সহ সমস্ত তথ্য সরকারকে দিতে তাদের বাধ্য করা হয়। পরিচয় পত্রের নামে চালু আদাসা কার্ডকে সেদেশের জুন্টা, প্রশাসনিক অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করে। একইভাবে কাশ্মীরেও ডিজিটাল তথ্য ভান্ডার তৈরি করে, প্রকারন্তরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকেই ইন্ধন জোগানোর চেষ্টা চলছে।
বিরোধীরা আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ এ ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর থেকে, কাশ্মীরের উন্নয়নের প্রশ্নে এখনো কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নিতে পারেনি কেন্দ্র। সেই খামতি ঢাকতেই নয়া অবতারে প্রশাসনিক খড়্গ হিসেবে তথ্য ভান্ডারকে ব্যবহার করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।
❤ Support Us







