Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ৩০, ২০২৬

রামমন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে ‘গৃহবন্দি’ প্রদেশ সভাপতি, ‘একনায়কতন্ত্র চলছে’ হাতের নিশানায় পদ্ম শিবির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রামমন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে ‘গৃহবন্দি’ প্রদেশ সভাপতি, ‘একনায়কতন্ত্র চলছে’ হাতের নিশানায় পদ্ম শিবির

অযোধ্যার রামমন্দিরে পুজো দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু উত্তরপ্রদেশে। মঙ্গলবার কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের রামমন্দিরে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। অভিযোগ, অযোধ্যা পৌঁছাতেই দলের রাজ্য সভাপতি অজয় রায়-সহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে পুলিশ কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রেখেছে। গভীর রাতে অজয় দাবি করেন, পুলিশ তাঁকে হোটেল থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। ঘটনাকে বিজেপি সরকারের ‘একনায়কতন্ত্রের চরম নিদর্শন’ বলে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। পাশাপাশি দলের অভিযোগ, প্রতাপগড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি নীরজ ত্রিপাঠীকেও গৃহবন্দি করে আটক করা হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ সরকার বা পুলিশ-প্রশাসনের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। কংগ্রেসের দাবি, সফরের বিষয়ে আগেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সফরের আগের রাতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়।

সোমবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে অজয় দাবি করেন, তিনি অযোধ্যায় পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ তাঁর হোটেলে আসে। প্রথমে তাঁকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে হোটেল থেকে তুলে নিজেদের জিপে করে নিয়ে যায়। ভিডিয়ো বার্তায় অজয় বলেন, ‘বিজেপি সরকারের স্বৈরাচার চরমে পৌঁছেছে। ৩০ জুন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের ভগবান শ্রীরামের প্রার্থনা করতে যাওয়ার কথা ছিল। আমি অযোধ্যায় পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি সরকার এতটাই ভয় পেয়ে যায় যে পুলিশ আমাকে  হোটেল থেকে গ্রেফতার করে। এখন তারা আমাকে নিজেদের জিপে করে নিয়ে যাচ্ছে।’ এর পরেই আরও তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা। অযোধ্যার জমি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং রাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রণামী ও চড়াভার অর্থ তছরুপের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। অজয়ের অভিযোগ, ‘অযোধ্যায় জমি কেলেঙ্কারি এবং ভক্তদের দান চুরির সঙ্গে যাঁদের নাম জড়িয়েছে, সেই ‘দান চোর’রাই আজ রামভক্তদের অযোধ্যায় আসতে দিতে ভয় পাচ্ছে। যারা ভগবানের নামে দোকান চালায়, তাদের এই কাপুরুষোচিত আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা থামব না, মাথাও নত করব না।’

অজয়ের অভিযোগের কিছু পরেই পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, শুধু রাজ্য সভাপতিই নন, তাঁর সঙ্গে অযোধ্যা যাওয়ার কথা ছিল প্রতাপগড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি নীরজ ত্রিপাঠীরও। তাঁকেও কোনো কারণ না জানিয়েই গৃহবন্দি করা হয়েছে, পরে পুলিশ আটক করেছে। হাত শিবিরের প্রশ্ন, উত্তরপ্রদেশে কি এখন ভগবানের দর্শন করাও অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে? কংগ্রেসের বক্তব্য, মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়া এবং দর্শনের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক-ধর্মীয় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সফর আটকাতেই রাজ্য সরকার বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে। দলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভগবান শ্রীরাম কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সম্পত্তি নন। তিনি গোটা দেশের কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও আস্থার প্রতীক। তাই কাউকে অযোধ্যায় গিয়ে তাঁর দর্শন করতে বাধা দেওয়া সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী এবং অসাংবিধানিক।’ কংগ্রেসের দাবি, অবিলম্বে গৃহবন্দি ও আটক করা সমস্ত নেতাকে মুক্তি দিতে হবে। তাঁদের যাতে কোনো বাধা ছাড়াই রামমন্দিরে গিয়ে ভগবান শ্রীরামের দর্শন করার সুযোগ দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আগেই দলের রামমন্দির সফর নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী দয়াশঙ্কর সিং। তিনি বলেছেন, ‘‘ওঁরা ভগবানের উপর বিশ্বাসই রাখেন না। তাঁদের অনেকেই তো ভগবান রামের অস্তিত্বও মানেন না। আগে তাঁরা কখনো অযোধ্যার মন্দিরে যাননি। যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁরা কি কখনো রামমন্দিরে গিয়েছেন? রামমন্দির নির্মাণে তাঁদের কোনও অবদান রয়েছে?’ এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অযোধ্যায় কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের কর্মসূচিকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, রামমন্দিরকে রাজনৈতিকভাবে একচেটিয়া করার চেষ্টা করছে বিজেপি। বিরোধী নেতাদের সেখানে যাওয়া ঠেকাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাদানুবাদে মুখর অযোধ্যার রাজনৈতিক বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে রাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রণামী ও দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। ওই মামলায় ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর -এর হাতে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনও জমা পড়েছে। সোমবার অযোধ্যার একটি স্থানীয় আদালত গ্রেফতার হওয়া সকল অভিযুক্তকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!