- স | হ | জ | পা | ঠ
- জুন ৮, ২০২৩
১৬ বছর নিঃসঙ্গ কাটিয়ে কুমারীর স্বপ্রজনন। স্বাভাবিক ঘটনা দাবি বিজ্ঞানীদের
পুরুষের কোনোরকম সাহচর্য ছাড়াই গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব কি সম্ভব? শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে বাস্তবে। তবে এ কৃতিত্ব কোনো মানবীর নয়, এক কুমিরের। দীর্ঘ ১৬ বছর কোস্টারিকার চিড়িয়াখানায় নিঃসঙ্গ কাটিয়েও গর্ভবতী হয় সে। কিছু দিন পরে ডিম পাড়ে। তা থেকেই কদিন পরে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। এমন ঘটনায় হতবাক চিড়িয়াখানার কর্মীরা। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে ভ্রুণটি বেরিয়ে এসেছে তাঁর সঙ্গে ৯৯.৯ শতাংশ মিল রয়েছে মা কুমিরের।
সাধারণ মানুষের কাছে এটি হতচকিত করবার মতো ঘটনা হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটা খুবই স্বাভাবিক। জীবিবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে, একসময় ডাইনোসররাও স্বপ্রজননে সক্ষম ছিলেন। আর তাছাড়াও পাখি মাছ ও অন্যান্য সরীসৃপদের মধ্যে এমন ঘটনা বিরল নয়। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, রয়্যাল সোসাইটি জার্নাল, বায়োলজি লেটার্স-এ। বিজ্ঞানীরা এভাবে জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে ফ্যাকাল্টেটিভ পার্থেনোজেনেসিস নাম দিয়েছেন । এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত না হয়ে একটি ভ্রূণ হিসেবে বিকশিত হয়।
বিজ্ঞানীদের সূত্রে জানা গেছে, আমেরিকান কুমিরটিকে ২০০২ সালে ২ বছর বয়সে বন্দী করে কোস্টারিকায় একটি চিড়িয়াখানার আনা হয়েছিল । পরে টানা ১৬ বছর ওখানে একটি ঘরে একা থাকত । ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে চিড়িয়াখানার কর্মচারীরা ১৪টি ডিম আবিষ্কার করেন। ডিমগুলো না ফুটলেও একটিতে সম্পূর্ণরূপে গঠিত ভ্রূণ ছিল। পরে ওই ভ্রূণের জেনেটিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়-এর মধ্যে কোনোটিতেই পুরুষের সংস্পর্শ নেই। ওই ভ্রূণ থেকেই কুমিরের ছানাটি বেরিয়ে আসে।
বৈজ্ঞানিক ডাঃ ওয়ারেন বুথ যিনি ১১ বছর ধরে কুমারী জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমরা এটি হাঙ্গর, পাখি, সাপ এবং টিকটিকিতে দেখতে পাই এবং এটি খুবই সাধারণ ব্যাপার এবং প্রায়শই এমন ঘটে।
❤ Support Us








