- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৩০, ২০২৬
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত তিন কেমিক্যাল পার্কের একটি বাংলায়, শিল্পায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীকের
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা রসায়ন’ (ভাব্য) প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গে একটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক বা কেমিক্যাল হাব গড়ে তোলার দাবি জানালেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে শিল্প ফেরানোর লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত তিনটি কেমিক্যাল পার্কের মধ্যে একটি বাংলায় তৈরির জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
কেমিক্যাল পার্ক তৈরির সম্ভাব্য স্থান হিসেবে শমীক ভট্টাচার্য সিঙ্গুর, হলদিয়া, রঘুনাথপুর এবং দুর্গাপুরের নাম প্রস্তাব করেছেন। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের নজরে যদি আরও কোনও উপযুক্ত জায়গা থাকে, সেটিও বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের কেমিক্যাল হাব তৈরি হলে রাজ্যে বড় মাপের বিনিয়োগ আসবে, শিল্পের প্রসার ঘটবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, দেশের রাসায়নিক শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা রসায়ন’ (ভাব্য) প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের তিনটি জায়গায় আধুনিক ও ডেডিকেটেড কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য মোট ৩,০৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রকল্প অনুযায়ী, প্রতিটি কেমিক্যাল পার্কের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সর্বোচ্চ ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। প্রতিটি পার্ক তৈরির জন্য প্রায় ২,০০০ একর জমির প্রয়োজন হবে, যার ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য সরকারকেই।
শমীক ভট্টাচার্য তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, বাংলায় একটি কেমিক্যাল পার্ক তৈরি হলে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি নির্মাণ, লজিস্টিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ও অটোমোবাইল শিল্পও উপকৃত হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এবং কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (CETP) তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে কেমিক্যাল হাবের জন্য একটি আন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর আগে ২,০০০ একর জমির প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা, আগামী বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা এবং কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও পেট্রোরসায়ন মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন।
শুভেন্দু অধিকারীকে পাঠানো এই চিঠির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং শিল্প দফতরের সচিবের কাছেও পাঠিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর লক্ষ্য, দীর্ঘদিনের শিল্প-প্রত্যাশাকে নতুন গতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
❤ Support Us







