- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ১, ২০২৪
আত্মরক্ষায় নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এবার মার্শাল আর্টের তালিম নিলেন বাংলার গৃহবধূরা
সকলেই প্রায় নিতান্ত গৃহবধূ। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে হাতা , খুন্তি নিয়ে বাড়ির অন্দরে। নয়তো ছেলে মেয়েদের স্কুলে বা পড়তে ,আঁকতে , নাচ শেখাতে নিয়ে যাওয়া। দিনকাল যা পড়েছে সে পথেও বিপদ ওৎ পেতে থাকতে পারে। তাই বিপদের মোকাবিলার প্রাথমিক পাঠ নিতে এগিয়ে এলেন মায়েরা। জনা ৩০ মহিলারা আত্মরক্ষার তাগিদে নিলেন ক্যারাটে প্রশিক্ষণ। মহিলাদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিলেন বসিরহাট রয়াল ক্যারাটে দো আকাদেমির কর্ণধার শান্তনু বসু। এই সংস্থার উদ্যোগে মধ্যমপুর ঘোষবাড়িতে একদিনের কর্মশালায় বসিরহাট, দন্ডিরহাট, টাকি, বেড়াচাঁপা, দেগঙ্গা এলাকা থেকে মহিলারা এসেছিলেন প্রশিক্ষণ নিতে। তাঁদের ৫ ঘন্টা ধরে ক্যারাটের মার্শাল আর্টের তালিম দিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্লোজ কম্ব্যাট ইন্সট্রাক্টার সেলিম আলি। সংগঠক শান্তনু বসু বলেন, মহিলাদের ওপর যৌন নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এমনকী ধর্ষণের মত ঘটনা আজকে যেন সামাজিক ব্যাধি হয়ে উঠেছে। এই সব ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমরা দেখি সমাজে প্রতিবাদের ঢেউ উঠতে। মৃত্যুর পর মোমবাতি নিয়ে পথে নামতে দেখি নাগরিক সমাজকে। মহিলারাও তাতে শামিল হন। কিন্তু এসবের থেকে আরও জরুরী মায়েদের আত্মরক্ষার বিষয়টি। তিনি বলেন, এখন অনেকে ছোট বয়স থেকে ক্যারাটে প্রশিক্ষন নিচ্ছে। কিন্তু যাঁদের বয়স হয়েছে কিন্তু বিপদে পড়ার সম্ভাবনা চলে যায়নি তাঁদেরও আত্মরক্ষার উপায় জানা থাকা জরুরী। তাই আমাদের এই উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের দাবি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকের হাতে খুব অল্প সময়ে একেবারে গৃহবধূদের নিয়ে এই কর্মশালা এই মূহূর্তে খুবই কার্যকরী হয়েছে। একদিনে মায়েরা নিজেদের ও তাঁদের সন্তানদের রক্ষা করতে এমন কিছু কৌশল শেখানো হয়েছে তা বিপদে পড়লে প্রয়োগ করতে পারবেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষক শেখ সেলিম আলি বলেন, ‘যাঁরা কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন তাঁদের বয়স ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে এবং ৪০–র কাছাকাছি । ইজরায়েলি আর্মির কিছু মার্শাল আর্ট তাঁরা রপ্ত করেছেন। যেগুলো প্রয়োগ করলে দুর্বৃত্তকে রুখে দিতে পারবেন।’ ক্যারাটের কৌশল শিখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন ব্রতী ভট্টাচার্য, নমিতা পাল, তানিয়া চ্যাটার্জি, মৌমিতা বসু, সুস্মিতা রায়, অর্পিতা দে, কমলিকা ভট্টাচার্য, রনিতা রায়ের মত গৃহবধুরা। কর্মশালার পরে ৪০ ছুঁই ছুঁই ব্রতী ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই বয়সে এসে ক্যারাটের কৌশল রপ্ত করতে পেরে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। বাড়িতে হাতা, খুন্তি নাড়তে নাড়তে এভাবে শেখা যায় আমরা ভাবিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সব মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল রপ্ত থাকলে হয়ত আর বিচারের দাবিতে মোমবাতি হাতে মিছিল করতে হবে না।’
❤ Support Us








