- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- নভেম্বর ৬, ২০২৫
ইয়ামি-ইমরানের বিতর্কিত ছবি ‘হক’-এর মুক্তি শুক্রবার, বন্ধের আর্জি পরিবারের। ‘ইজ্জতের লড়াই ছিল মায়ের’— বললেন বানোর ছেলে
শাহ বানো প্রায় ৫ দশক বিবাহিত জীবন কাটানোর পর, যখন তার স্বামী তাঁকে ৫ সন্তানসহ ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেন, নিরুপায় বানো তখন দ্বারস্থ হয়েছিলেন আদালতের
ভারতের আইনি ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত মামলার উপর ভিত্তি করে ইয়ামি গৌতম এবং ইমরান হাশমি অভিনীত ছবি ‘হক’ শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। এই চলচ্চিত্রটি প্রখ্যাত মোহাম্মদ আহমেদ খান বনাম শাহ বানো বেগম মামলার ঘটনাক্রমের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। পরিচালক সুপর্ন এস. ভর্মা বলেন, সিনেমাটি শাহ বানো’র জীবনী নয়, বরং তার অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের প্রেরণায় তৈরি। শাহ বানো প্রায় ৫ দশক বিবাহিত জীবন কাটানোর পর, যখন তার স্বামী তাঁকে ৫ সন্তানসহ ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেন, নিরুপায় বানো তখন দ্বারস্থ হয়েছিলেন আদালতের।
১৯৮৫ সালে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলাটি রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়েছে বারবার। তৎকালীন ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের উপর এ নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি। কিন্তু বানোর পরিবারের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য? সে দিকে বোধকরি নজর দেননি শাহ বানো-র ছেলে, জমিল আহমেদ খান, এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর মা বহুল প্রচারের কারণে ‘লজ্জিত’ ছিলেন এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মানসিক চাপের কারণে নানা স্বাস্থ্য সমস্যায়ও ভুগেছিলেন। ২০১১ সালে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জমিল বলেন, ‘আমার মা-এর উপর সমাজও কম অন্যায় করেনি। তিনি এক সাধারণ, পর্দা-প্রচলিত নারী ছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে তালাক, প্রচার, কাগজ-পত্রের জটিলতা… সব কিছুতেই তিনি লজ্জিত ছিলেন। খুব বেশি কিছু বলেননি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভীষণ কষ্ট ভোগ করেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মানসিক চাপের কারণে তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও অসুস্থতার শিকার হন।’ ১৯৯২ সালে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান বানো। জমিল বলেন, এটি ছিল একটি পারিবারিক বিষয়, কিন্তু আত্মসম্মানের লড়াইও বটে।
শাহ বানো’র স্বামী মোহাম্মদ আহমেদ খান দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিবাহিত করার ১৪ বছর পরে শাহ বানোকে এবং সন্তানদের ঘর ছেরে চলে যেতে বলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি ৪৮ বছর ধরে চলা বিবাহের পর শাহ বানোকে তালাক দেন। শাহ বানো তখন সেকশন ১২৫, ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড (সিআরপিসি), ১৯৭৩ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী দাবি করেছিলেন, মুসলিম পার্সোনাল ল’র নিয়ম অনুযায়ী, তিনি শুধু ‘ইদ্দত’ সময়কালে (তিন মাস) সহায়তা করেছিলেন এবং দেনমহরও প্রদান করেছেন, তাই তার আর কোনো দায়িত্ব নেই। স্থানীয় আদালত শাহ বানোকে ২৫ টাকা প্রতি মাসে সহায়তা প্রদানের আদেশ দেন, যা পরে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে ১৭৯.২০ টাকায় বৃদ্ধি পায়। সুপ্রিম কোর্ট এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এই মামলার রায় পরবর্তীতে ভারতে মহিলা অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। জমিল স্মরণ করেন, মামলাটি জাতীয় গুরুত্ব পাওয়ার পর তাঁদের পরিবারিক জীবন আরো কঠিন হয়ে ওঠে। ‘প্রচুর শহরে প্রতিবাদ হয়েছিল, আমরা প্রতিমুহুর্তে ‘ভয়’ পেতাম। এক লাখ মানুষের মিছিল আমাদের বাড়ির সামনে গেলে, শুধু পাথর ছোঁড়াও হলে, আমাদের কাঁচা ঘর ভেঙে যেত। ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।’
‘হক’ ছবির পরিচালক সুপর্ণ এস. বর্মা বলেছেন, ‘আমি যদি বায়োপিক বানাতাম, তবে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে, অনুমতি নিয়ে বানাতাম, তাঁদের দেখতাম। এখানে আমি শাহ বানো রায় এবং তার পূর্ববর্তী রায়গুলোর প্রেরণায় চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছি। এটি শাহ বানো’র জীবনী নয়।’ তবে, শাহ বানো পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সিনেমাটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং তাদের সম্মতি ছাড়া নির্মিত হয়েছে। শাহ বানো’র কন্যা সিদ্ধিকা বেগম মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা করেছেন, মুক্তির আগে ‘হক’ বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর তিনি বলেছেন, ‘এ সিনেমায় আমার মায়ের জীবন ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন।’ বানো পরিবারের আরো অভিযোগ, ‘টিজার মুক্তি পাওয়ার পর আমরা জানতে পারি সিনেমা বানানো হয়েছে। অনেক তথ্য বিকৃত হয়েছে। এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়কে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছে।’ নির্মাতারাও স্বীকার করেছেন যে, সিনেমার প্রয়োজনে অনেক ঘটনা নাটকীয় করা হয়েছে। প্রযোজকের আইনজীবী অজয় বাগাদিয়া বলেন, ‘ছবিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ‘বানো, ভারত কি বেটি’- বইয়ের উপর ভিত্তি করে বানানো। প্রতিটি ঘটনা সত্য নয়।’ যদি মুম্বাই হাঁইকোর্ট এর মধ্যে কোনো নির্দেশ না দেন তবে, আগামী শুক্রবারই দেশের বহু পেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ‘হক’। প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন ইয়ামি গৌতম ও ইমরান হাশমি।
❤ Support Us








