- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- জুলাই ২৭, ২০২৫
হিরণবালা । পর্ব ১৪
রুগিটির মৃত্যু আর হাসপাতালের তাণ্ডব নিয়ে একটা ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারি হল, এলো বদলির নোটিশ । বদলির অর্ডার যেদিন হাতে পেয়ে হিরণ ভাবলো, কোথায় গিয়ে স্থির হবে ওর এই পদ্মপাতায় জলের মতো টলমল করতে থাকা জীবন ? ....তারপর
২৩
হিরণের বারবার কর্মক্ষেত্র বদলি হওয়াতে সবচেয়ে অসুবিধে হচ্ছে গোবিন্দর। এক স্কুলে থিতু হতে না হতেই আবার অন্য স্কুলে চলে যেতে হচ্ছে ওকে। এমনিতে রামসাগর জায়গাটা খারাপ নয়। বাঁকুড়া আর মেদিনীপুরের পশ্চিমদিকটার জলহাওয়ার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। কাঁথি ছিল একেবারে আলাদা। কিন্তু বেলিয়াতোড়, রামসাগর আর গড়বেতার মধ্যে মিল প্রচুর। এই অঞ্চলগুলোতে ও-দেশের লোকেরা তেমন একটা বাসা বাঁধেনি এখনও। এটা একটা সমস্যা। নিজের দেশের মানুষজনের দেখা পায় না বলেই মাঝে মাঝেই হিরণের মনে হয় এদেশে বুঝি বা মানুষের অনুগ্রহের ওপর বেঁচে আছে ওরা। ঠারেঠোরে অনেকে অনেক কথা শোনায়। ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে। যেসব খাবার ওরা খায়, সেসব নিয়েও খোঁটা দেয়। কচুশাক নাকি ছাগলে খায়, মানুষের খাবার জিনিস নয় মোটেই। লইট্যা মাছ নাকি এক ধরনের সাপ। বাঙালরা সাপ-ব্যাঙ সবই খায়। এই ধরনের কথা শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে হিরণ। এখন আর গায়ে মাখে না। গোবিন্দর অবশ্য এসব নিয়ে সমস্যা হয় না। বেলিয়াতোড়ে থাকার সময় থেকেই ও বাঁকড়ি ভাষাটা এমন রপ্ত করে ফেলেছে যে, ওর বন্ধুরা বাঙাল বলে ওকে নিয়ে তেমন ঠাট্টা ইয়ার্কি করে না। রামসাগরে এসেই তিনজন বন্ধুও জোগাড় করে ফেলেছে গোবিন্দ। বিশু, তিতা আর লক্ষ্মী। স্কুলের বাইরের সারা সময়টা ওদের সঙ্গে টো টো করে বেড়ায় ছেলেটা। ফুটবল খেলতে কোথায় কোথায় যে চলে যায় !
ছেলেদু-টিকে নিয়ে অবশ্য এখন আর তেমন ভাবে না হিরণ। দু-জনেই পড়াশোনাতে ভালোই। সত্যর তো পড়াশুনো অনেক দূর পর্যন্ত হয়েই গেছে। গোবিন্দও এখানে ক্লাসের ফার্স্টই হচ্ছে। ও কেমন যেন বুঝতে পারছে ছেলে দুটোকে নিয়ে ওর খুব বড়ো চিন্তা থাকবে না। গীতার বিয়ে দেওয়াটাই এখন হিরণের সবচেয়ে বড়ো কাজ।
হিরণ ঠিক করেছিল সরকারি চাকরি করা পাত্রর সঙ্গেই গীতার বিয়ে দেবে। সরকারি চাকরি জলে ডোবে না, আগুনে পোড়ে না। এই কথাটা ওকে একদিন বলেছিলেন রামসাগর হাসপাতালের ডাক্তারবাবু সুধাময় শিট। ডাক্তারবাবু অনেকটা কাঁথি হাসপাতালের ডাক্তার রায়ের মতো। বেশি কথা বলেন না, মাঝে মাঝে একটা দুটো কথা বলেন। কিন্তু, যা বলেন, একেবারে মাথার মধ্যে গেঁথে যায়
রামসাগরে আসার পরে পরেই সুরেন গোঁসাই আরও দু-টি সম্বন্ধ এনেছিল। গড়বেতা থেকে রামসাগরে চলে এলেও সুরেন গোঁসাই ওর সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেনি। গড়বেতা থেকে রামসাগর ঘণ্টাখানেকের পথ। আর ঘুরে বেড়ানোই তো সুরেন গোঁসাইয়ের কাজ ! মাঝে মাঝেই তাই সুরেন গোঁসাই রামসাগরেও চলে আসছে। তবে যে-দুটি পাত্রর খোঁজ সুরেন গোঁসাই এনেছিল, সেই দু-টির কোনোটিকেই হিরণের তেমন পছন্দ হয়নি। দু-টিই ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে। হিরণ ঠিক করেছিল সরকারি চাকরি করা পাত্রর সঙ্গেই গীতার বিয়ে দেবে। সরকারি চাকরি জলে ডোবে না, আগুনে পোড়ে না। এই কথাটা ওকে একদিন বলেছিলেন রামসাগর হাসপাতালের ডাক্তারবাবু সুধাময় শিট। ডাক্তারবাবু অনেকটা কাঁথি হাসপাতালের ডাক্তার রায়ের মতো। বেশি কথা বলেন না, মাঝে মাঝে একটা দুটো কথা বলেন। কিন্তু, যা বলেন, একেবারে মাথার মধ্যে গেঁথে যায়। ডাক্তার শিটই অবশ্য এও বলেছেন যে, সরকারি চাকরি যদিও অমর, তবে আজকালকার যুগে সরকারি চাকরি পাওয়া আর তেমন সোজা নেই। স্বাধীনতার পরে সমাজের সর্বত্রই কেমন একটা আকাল চলেছে। চাকরির বাজারেরও একই অবস্থা। তাই ভালো বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে এমন পাত্র গীতার জন্য খারাপ হবে না। ডাক্তারবাবু এই কথাটা বলার পর থেকেই হিরণ ভাবতে শুরু করেছে যে, ভালো বেসরকারি চাকুরে পাত্র পেলে হিরণের বিয়েটা ও দিয়েই দেবে। এই ক-বছরে ও তো বিরাট কিছু টাকা জমিয়ে উঠতে পারেনি। দাদার কাছে হয়তো হাত পাততে হবে। গয়নাগাঁটির জন্য তেমন সমস্যা হবে না। ও-দেশ ছেড়ে আসার সময় নিজের গয়নাগুলো সবই নিয়ে এসেছিল হিরণ। সেসব দিয়েই গীতার বিয়ে উতরে যাবে।
সমস্যা অবশ্য একটা আছে। গীতা নিজে এখনও বিয়ে করতে তেমন রাজি নয়। হিরণ আজ ভেবেছে রাত্রিবেলা খাওয়া-দাওয়ার পর গীতার সঙ্গে ওর বিয়ে নিয়ে স্পষ্ট করে ক-টা কথা বলবে। নাইট ডিউটি থাকলে রাতের খাবার অনেক তাড়াতাড়ি খেয়েই হিরণ হাসপাতালে চলে যায়। ভাইকে খাইয়ে ঘুম পাড়ায় গীতাই। আজ হিরণের ডে শিফট ছিল। খাওয়াদাওয়ার পর তাই গোবিন্দকে ঘুম পাড়িয়ে ও গীতার ঘরের গেল। গীতা এখন একা শোয়। বড়ো হয়েছে বলে মায়ের সঙ্গে শুতে ও কেমন একটু লজ্জা পায়। হিরণ ওর ঘরে ঢুকতেই গীতা ধড়মড় করে বিছানা থেকে উঠে বসল। বলল, কী হইল মা ?
হিরণ বলল, কিছু হয় নাই। তোর লগে একখান কথা ছিল।
গীতা বলল, কও।
হিরণ বলল, তোর এবার বিয়া দেওন লাগে। এটা আমার একখান কাম। হইয়া গেলে একটু মুক্তি পাই। রাগ করস না।
গীতার মুখ একটু গম্ভীর হয়ে গেল। তারপর বলল, বিয়া না কইর্যা থাকলে, কী হইব মা?
হিরণ বলল, সারা জীবন তো আমি থাকুম না। তরে দ্যাখব কেডা?
গীতা বলল, দু-খান ভাই কি আমার এমনি এমনি আসে নাকি?
হিরণ বলল, ভাইদের সংসার হইব। চাইলেও তোরে দেখতে পারব না। আর মাইয়া মানষের নিজের একখান সংসার লাগে। একখান মানুষ লাগে যার সঙ্গে সুখদুঃখের কথা ভাগ কইর্যা লওন যায়।
গীতা বলল, তোমার তো সে মানুষ নাই মা। তুমি ক্যামনে আস?
হিরণ বলল, সে মানুষ তো ছিল। সে মানুষ না থাকলে, তোগো পাইলাম ক্যামনে ? সে মানুষ নিজে হারাইয়া গিয়া তোগো দিয়া গেসে। তোগো আঁকড়াইয়া বাঁইচ্যা আসি। মাইয়া মানষের একখান পুরুষ মানুষ লাগে জীবনে। পরে বুঝবি অনে মায়ের কথা।
এবার গীতা চুপ করে রইল। বাবার কথা উঠলেই ও চুপ করে যায়। হিরণ বুঝতে পারে যে, তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে বাবাকে তো ওই একটু বেশিদিন পেয়েছিল। তাই বোধহয় বাবার অভাবটা ও পুরো ভুলতে পারেনি।
গীতা চুপ করে আছে দেখে হিরণ বলল, সুরেন গোঁসাইরে আরেকবার ডাইক্যা পাঠাই, বুঝলি?
হিরণ মিইয়ে যাওয়া গলায় উত্তর দিল, যা ভালো বুঝো, করো। আমি আর কী কই!
হিরণ এবার গীতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, মাইয়া মানষের একখান পুরুষ মানুষ লাগে রে জীবনে। আমি তো তোর মা। আমি তো তোর খারাপ চামু না।
গীতা এবার কিচ্ছু না বলে হিরণের বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে দিল। সেই ছোটোবেলার মতো। হিরণের মনে হল, বিয়ের কথায় ও যেন ভয় পেয়ে গেছে খুব।
২৪
সুরেন গোঁসাই একজন খুব ভালো পাত্রর সন্ধান এনেছে। ছেলেটির নাম মনোরঞ্জন কর। কলকাতার একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে পাত্র। কিন্তু বাড়ি কোন্নগরে। সংসারে মা ছাড়া আর কেউ নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা, পণ চায় না ছেলেটির মা। শুধু বলেছে মেয়েকে যেন কিছু গয়নাগাঁটি দেওয়া হয়। ছেলেটির ছবি দেখেও পছন্দই হয়েছে হিরণের। ছিপছিপে, ফর্সা চেহারা। মাথার চুল অবশ্য একটু পাতলা। খুব বেশি লম্বাও নয় ছেলেটি। তবে সৌম্যদর্শন। দেখলেই মনে হয় ছেলেটি বড়ো শান্ত প্রকৃতির। সুরেন গোঁসাই জানিয়েছে সামনের সপ্তাহে একদিন ছেলে আর তার এক বন্ধু আর মা আসবে গীতাকে দেখতে।
এক দেখাতেই গীতাকে পছন্দ হয়ে গেল মনোরঞ্জন আর ওর মা। হবে নাই বা কেন ? গীতার চেহারা হিরণ আর ওর বাবার চেহারা মেশানো। রীতিমতো সুন্দরী সে। মেয়েকে যে তার পছন্দ হবেই পাত্রপক্ষের, একথা হিরণ জানত। ওরা চলে গেলে হিরণ সুরেন গোঁসাইকে বলল, আমরা একবার ছেলেটির ঘরদোর দেইখ্যা আসুম না?
সুরেন গোঁসাই বলল, ঘরদোর তো তেমন নাই। ছিটেবেড়ার ঘর। ও পাড়ার সবাই বাঙাল। সবারই ওই রকমই ঘর। তবে ছেলেটি খুব তাড়াতাড়ি জমি কিনে বাড়ি বানাবে, এ কথা আমাকে বলেছে।
হিরণ তবু বলল, না না, আমাগো একবার যাওন লাগে। আপনি একখান দিন ঠিক করেন। আমি দাদারে খবর দিই।
দাদাকে খবর দিয়ে হাওড়া থেকেই দাদা, হিরণ আর সত্য গেল পাত্রটির বাড়ি দেখতে। গোটা পাড়াটাই একটা উদ্বাস্তু কলোনি। সবই ছোটো ছোটো ছিটেবেড়ার ঘর। একটাও পাকা বাড়ি নেই। কিন্তু, পাড়াতে এসেই হিরণের মনে হল যেন নিজেদের দেশে ফিরে গেছে ও। সকলেই ওদের ভাষায় কথা বলছে। কুপার্স ক্যাম্পের মতো অতখানি অপরিচ্ছন্ন, নোংরা নয় চারপাশের পরিবেশ। বরং সকলেই বাড়ির সামনের ছোট্ট ছোট্ট উঠোনে নানা ফুলের গাছ লাগিয়েছে। কেমন একটা নিজের দেশ, নিজের দেশ গন্ধ এই গোটা পাড়া জুড়ে। দাদার মনোরঞ্জনদের এই ছিটেবেড়ার বাড়ি তেমন পছন্দ হল না। কিন্তু, দাদার মতকে অগ্রাহ্য করেই হিরণ ঠিক করল মনোরঞ্জনের সঙ্গেই গীতার বিয়ে দেবে। ছেলেটি অতি ভদ্র। পণের দাবি নেই। ননদ, ভাসুর, দেওর কাউকে নিয়ে ঘর করতে হবে না। এতগুলো সুবিধে অন্য জায়গায় আর পাওয়া যাবে নাকি ? ভালো চাকরি করে মনোরঞ্জন। আস্তে আস্তে বাড়ি ঠিক করে নেবে। হিরণের যুক্তির কাছে হার মানল দাদা।
হিরণের মনে হল দেশ শুধু ভাগ হয়নি, জমি শুধু ভাগ হয়নি, পরিবারগুলোও ভাগ হয়ে, টুকরো টুকরো হয়ে, এদিকে-ওদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই টুকরোগুলোকে আর কোনোদিনই একসঙ্গে করে জুড়ে দেওয়া যাবে না। কাচের গ্লাস ভেঙে ফেলার মতো করেই দেশটাকে ভেঙে দিয়েছে নেতারা।
মেয়ের বিয়ে দেওয়ার তো চাট্টিখানি কথা নয়। অনেকখানি দায়িত্ব হিরণের মাথায়। দাদার পক্ষে সারাক্ষণ এসে সবকিছুর তদারকি করা সম্ভব না। এই প্রথম হিরণের মনে হচ্ছে মানুষটা ওর সঙ্গে থাকলে আজ কত সুবিধে হত! সে যে কোথায় চলে গেল! হারিয়ে গেল কোন মহাশূন্যে! একবারও কি তার হিরণের কথা, বাচ্চাদের কথা মনেও পড়ে না? মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কী করে?
ছোটো একটা খাতায় টুকটুক করে গুছিয়ে কাজগুলোকে লিখে রাখতে থাকে হিরণ। এ-কাজে গীতাও ওকে সাহায্য করছে। বিয়ের এখনও তিন মাস বাকি আছে। কিন্তু অর্ধেকের বেশি কাজ এর মধ্যেই হিরণ করে ফেলেছে। নিমন্ত্রিতদের তালিকাও বানিয়ে ফেলেছে হিরণ। ওর পুরোনো তিন কর্মক্ষেত্রের সমস্ত সহকর্মীদেরই নেমন্তন্ন করবে ঠিক করেছে হিরণ। খামের ওপর নাম-ঠিকানা লিখে, সিঁদুর আর হলুদের টিপ লাগিয়ে, কার্ডগুলো পোস্ট করে দিচ্ছে পোস্ট অফিসে। এসব কাজে ওকে খুবই সাহায্য করছে গীতা। দাদাদেরও একটা কার্ড তো দিতে হবে। সামনের মাসে সত্য এলে ওর সঙ্গে হিরণ নিজেই গিয়ে নেমন্তন্ন করে আসবে দাদা-বউদিকে। লাবণ্যদের নামে কুপার্স ক্যাম্পের ঠিকানাতেই একটা কার্ড পোস্ট করল হিরণ। এই কার্ডটা লিখতে গিয়ে দিদির কথা মনে পড়ল ওর। দিদি তো সেই ঢাকায় ! জানতেও পারবে না গীতার বিয়ে হচ্ছে। কার্ড পাঠিয়েও লাভ নেই। কিছুদিন আগেও ও-দেশ থেকে এ-দেশ বা এ-দেশ থেকে ও-দেশে যাতায়াত ছিল সহজ ব্যাপার। এখন আর তেমন সহজ কিছুই নেই। ভিসা-পাসপোর্ট লাগে এ-দেশ থেকে ও-দেশে যেতে, ও-দেশ থেকে এ-দেশে আসতে। দেশভাগ একেবারে সম্পূর্ণ হয়েছে। দিদির কথা মনে আসার পরপরই হিরণের মনে পড়ে নির্মলার কথাও। মেয়েটা যে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই আর জানতে পারল না ও। ছিদামের কথাও মনে পড়ে হিরণের। আজ যে-জীবন হিরণ পেয়েছে, তার পেছনে ছিদামের অবদান তো আছেই। গীতার বিয়ে হচ্ছে জানলে ছিদাম নিশ্চয়ই খুব অবাক হত, খুশিও হত। এইসব ভাবতে ভাবতেই অনেকদিন পরে হঠাৎ হিরণের মনে হল দেশ শুধু ভাগ হয়নি, জমি শুধু ভাগ হয়নি, পরিবারগুলোও ভাগ হয়ে, টুকরো টুকরো হয়ে, এদিকে-ওদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই টুকরোগুলোকে আর কোনোদিনই একসঙ্গে করে জুড়ে দেওয়া যাবে না। কাচের গ্লাস ভেঙে ফেলার মতো করেই দেশটাকে ভেঙে দিয়েছে নেতারা।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
ক্রমশ..
আগের পর্ব পড়ুন: হিরণবালা । পর্ব ১৩
❤ Support Us








