- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- জুলাই ২৩, ২০২৩
চর >।পর্ব ৩।
পদ্মার ঘূর্ণির টান কোথায় টেনে নিয়ে গিয়েছিল দুজনকে খবর পাওয়া যায়নি। বিশাল পদ্মা। তার ঘূর্ণির টানও বিশাল । পাক খেতে খেতে, ফুলে ফুলে, দুলে দুলে উঠছিল পদ্মার ঘোলা জল। সেই ঘোলাজলের ভেতর থেকে কে যেন ফোঁস ফোঁস করে গুমরে গুমরে উঠছিল, লক লক করে বের করছিল লম্বা কালো জিভ..... তারপর
অসঙ্করণ: দেব সরকার
ধা রা বা হি ক · উ প ন্যা স
•৫•
জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি। আকাশে মেঘ নেই। বৃষ্টিও নেই। শীতের শুরুতে মাঠে মাঠে কলাই কাটা হয়ে গেলে গোটা শীতকাল জুড়ে চাষীরা জমি চাষ করে ফেলে রেখেছিল। আগের দিনে চাষীরা চাষ করত নিজের লাঙল দিয়ে। তখন প্রত্যেক চাষীর ঘরে থাকত একজোড়া বলদ গোরু, লাঙল, জোয়াল আর মই। যাদের একটা গোরু থাকত, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে গ্যাঁতে চাষ করত। গ্যাঁতে চাষ হল দুজন চাষী তাদের গোরু নিয়ে একসাথে চাষ করা। যারা ছিল নিতান্তই গরীব, যাদের হালের গোরু থাকত না, তারা লাঙল কিনে চাষ করত। সে সব পদ্মার ভাঙনের আগের কথা।
এখন বেশির ভাগ চাষীর ঘরে গোরু নেই, লাঙলও নেই। এখন চাষ হয় ট্রাক্টর দিয়ে। চাষীদের কারও নিজের ট্রাক্টর নেই। ট্রাক্টর যায় এপার থেকে। মালিকরা বাস করে এপারে। নদী পার করে তারা ট্রাক্টর পাঠিয়ে দেয় চরে। কলাই চাষ থেকে বর্ষা আসার আগে পর্যন্ত ট্রাক্টর চরে থাকে। চাষীরা ভাড়া নেই। কলাই বয়ে নিয়ে আসে। জমি চাষ করে। পাট বুনে, পাট কাটে। ট্রাক্টর বোঝাই করে মাঠের পাট তুলে নিয়ে আসে। ডোবা, নালার জলে পাট পচাই। গ্রামের বধূরা, পুরুষরা একসাথে মিলেমিশে পাট ছাড়িয়ে নেয়। কেউ বাঁশ বেঁধে, কেউ ঘরের চালায় মেলে দিয়ে পাট শুকোয়।
বৈশাখের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হয়েছিল। তখন চাষীরা পাট বুনেছিল। বালি মাটিতে পাট ভালো হয়না। বৃষ্টি না হলে পাট শুকিয়ে যায়। সেখানে চাষীরা তিল বোনে। বাখারি লাগায়, তরমুজ চাষ করে।
জ্যৈষ্ঠ শেষ হয়ে আষাঢ় এল। বৃষ্টি এল আষাঢ়ের শেষে। সবুজের রঙে ভরে গেল মাঠ। এখন মাঠ জুড়ে নিড়ানির সময়, মাঠ জুড়ে নিড়ানি নিয়ে বসেছে চাষীরা। বাড়ির নারী পুরুষ বাচ্চা – সবাই মাঠে নেমেছে সকাল সকাল। বেলা বাড়লে গরম বাড়ে। ভ্যাপসা গরম। গোটা শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত গোটা শরীরে কয়েকবার স্নান হয়ে যায়। মাথার গামছা দিয়ে মাঝে মাঝেই গা মুছে নিতে হয়। আবার ঘাম হয়। আবার মুছে নিতে হয়। এই সময় প্রচণ্ড পিপাসা পায়। যারা বালতি বা কলসিতে জল নিয়ে যায়, তারা জল খেয়ে আরও কিছুক্ষণ থাকে। যারা জল নিয়ে যায়না, তারা বেশিক্ষণ থাকতে পারেনা। সূর্যের তেজ বাড়ার আগেই সকাল সকাল কাজ করে ঘরে ফিরে আসে।
খুব সকালেই আনসার আলি নিড়ানি আর জালিয়া হাতে মাঠে এসেছিল। জমি নিড়িয়ে জালিয়াতে ঘাস ভরে ঘরে নিয়ে যাবে। একটি গাই গোরু, বাছুর আর পাঁচটি ছাগল আছে। জৈষ্ঠ-আষাঢ়ের ঘাস গোরু-ছাগলে খায় ভাল।
নিড়ানি দিতে দিতে গুন গুন করে গজল গাইছিল আনসার আলি। অন্য দিন মাঠে কাজ করলে বাড়ি থেকে ময়না খাবার নিয়ে আসে। বাচ্চা হয়েছে। মাঠে আসতে পারবে না সে। মাঠে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না। রোদ কড়া হলেই ঘরে চলে যাবে আনসার।
এই সময় পাশের জমি থেকে গোলাম মিঞার গলা শোনা গেল, “কী আনসার ভাই। বাপ হয়্যাছ শুননু!”
আনসার আলির জমির পাশেই গোলাম মিঞার জমি। আনসার আলি ডান দিকে ফিরে দেখল গোলাম মিঞাও কখন জমিতে এসে বসেছে নিড়ানি দিতে। মাথায় মস্ত একটা মাথল। সেও জমিতে পাট বুনেছে। গোলামের পাট আনসার আলির পাটের চেয়ে একটু ছোট হয়ে আছে।
“হ্যাঁ ভাই। আব্বা হনু।” জমিতে নিড়ানি দিতে দিতে বলল আনসার আলি।
“ব্যাটা না বেটি?” হাঁক দেওয়ার মতো করে বলল গোলাম মিঞা।
“ব্যাটা।” আনসার আলিও জোরে জোরে বলল।
“ব্যাটা!”
পাশের জমি থেকে এক লাফে গোলাম ছুটে এসে আনসার আলিকে জড়িয়ে ধরে বলল, “ব্যাটা জন্ম দিয়্যাছ! কী তাকত তোমার ভাই। খুঁটির কত জোর থাকলে শালা ব্যাটা পয়দা হয়।”
“না গোলাম ভাই! ওসব বাজে কথা! আল্লার ইচ্ছ্যা হয়্যাছে, আমার ব্যাটা হয়্যাছে। আল্লা যদি বেটি দিত। তালেও তো লিতে হত। সবই আল্লার ইচ্ছ্যা গোলাম ভাই। আল্লার ওপর ভরসা রাখতে হয়।” কথাটি বলে আকাশের দিকে উদাসীনভাবে তাকিয়ে গোলাম মিঞার পাশে বসল আনসার আলি।
গোলামের দুটি মেয়ে। বড় মেয়েটার বয়স চৌদ্দ। ছোটটার এগারোর কাছাকাছি। পর পর দুটি মেয়ে হবার পর আর চেষ্টা করেনি গোলাম। কি জানি! আবারও যদি মেয়ে হয়! তার মনের ইচ্ছে একটা ছেলে নেবার। সংসারে যদি একটি ছেলে আসে, বংশের বাতি জ্বলে। লাঠির জোর বাড়ে, বাড়ে মনের জোরও। কেউ মারতে আসলে পাশে থেকে ঠিক লাঠি ধরবে বেটা। তাছাড়া বুড়ো বয়সে একটা ভরসার জায়গা আসে। মেয়ে তো বিয়ে দিলেই পরের ঘর চলে যাবে। পরের ঘর থেকে সে কি দেখতে আসবে!! পরের ঘর, পরের ছেলে। টাকা পয়সা, ধন-দৌলত দিলে সে ভালো, না দিলে মেয়ের উপর চলবে অত্যাচার। তাই সে ঠিক করেছে যেভাবেই হোক, একটা বেটা সে নিবেই। কিন্তু কীভাবে বেটা হতে পারে? ইচ্ছে করলেই কী বেটা জন্ম দেওয়া যায়? নানাজনের কাছে নানান খবর নিয়েছে সে। কত ডাক্তারের কাছে গেছে, কতরকমের ওষুধ খেয়েছে। কত জনের কত রকম পরামর্শ কত রকমের গাছ খেয়েছে। জলপড়া, তেলপড়া খেয়েছে। নিজে খেয়েছে, বউকেও খাইয়েছে। কিছুতে কিছু হয়নি। শেষে একজনের পরামর্শে বীরভূমের এক বড় মাজারে গিয়ে খাশি মানত করে এসেছে। এর পরেরটা ছেলে হলে মাজারে দুটো বড় বড় খাশি ছাগল মানত দিবে সে। এখন গোলামের বউ সাত-আট মাসের পোয়াতি। এবার যদি একটা বেটা হয়। তাহলে সমাজের সামনে মাথাটাও উঁচু হয় তার!
গোলাম আনসারের সামনে মনের গোপন ইচ্ছের কথা বলল না। কেবল একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল। তারপর আনসার আলির সুর ধরে বলল, “হ্যাঁ ভাই। সবই আল্লার ইচ্ছ্যা। আল্লা ইচ্ছ্যা করলে পর পর তিন চারটা বেটিও দিতে পারে। আবার ব্যাটাও দিতে পারে। আমরা শুধু ভাব্যা ভাব্যা মরি।”
আনসার আলি বলল, “দেখ ভাই। জন্ম, মৃত্যু, রুজী রোজগারের মালিক আল্লা। ছেল্যা মাইয়্যার জোড়া মিলিয়্যা দিবার মালিকও সেই। সে একটা হোক আর দশটা হোক। আল্লা ইচ্ছ্যা করলে সবই হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। আমরা খালি ভাব্যা ভাব্যা মরি।”
গোলাম মিঞা সামান্য চুপ করল। তারপর কি একটা ভেবে বলল, “তা ঠিক কথায় বুলছ আনসার ভাই। রিজিকের মালিক আল্লা। জন্ম মৃত্যু দিবারও মালিক আল্লা। আল্লা না চাহিলে যতই হাঁইফাই হাঁইফাই করো। কিচ্ছু হবেনা।”
তারপর একটু থেমে বলল, “আজান দিয়্যাছ তো?”
“ক্যান গোলাম ভাই? আজান ক্যান?” আবার নিড়ানি শুরু করেছিল আনসার আলি। নিড়ানি থামিয়ে সে বলল।
‘ব্যাটা হলে আজান দিতে হয়। জাননা ?’ একটু হেসে বলল গোলাম মিঞা।
“না তো ভাই। দেওয়া হয়নি। জানতুক না। তাছাড়া সে রাতে কী আজান দ্যাওয়া য্যাত? যে রাত ছিল সেদিন! ময়নার জানই তো বাঁচছিলনা তো আজান দিব কখন। সফর ডাক্তার না থাকলে কী যে হত? সেদিন সফর ডাক্তার ফেরেশতা হয়্যা য্যান নাম্যা আস্যাছিল।” আনসার আলি উদ্বিগ্ন ভাবে বলল কথাগুলি।
“হ্যাঁ ভাই। সেদিন রাতে খুব ঝড় হচ্ছিল। আমি তো ভাবছুনু দুনিয়্যা বোধয় ধ্বংস হয়্যা যাবে। ভোরের মুখ আর দেখতে পাবনা।” গোলাম মিঞা বলে সামান্য থামল। তারপর আবার বলতে শুরু করল, “তুমিই না বললে আনসার ভাই, সবই আল্লার ইচ্ছ্যা। হয়তো ওটাও আল্লার ইচ্ছ্যা ছিল।”
‘হ্যাঁ ভাই। সবই আল্লার ইচ্ছ্যা। হয়তো সেদিন আল্লা অন্যভাবে আমাকে পরীক্ষা করছিল। আল্লা কখন কাকে কীভাবে পরীক্ষা করবে কেহু বুলতে পারবেনা।”
তারপর আনসার আলি ট্যাঁক থেকে বিড়ির কৌটো বের করে বলল, “বিড়ি খাবে নাকি গোলাম?”
গোলাম বিড়ির ভক্ত। দিনে এক দু বাণ্ডিল বিড়িতেও তার হয়না। বলল, “দাও আনসার ভাই, বিড়িই দাও। কিন্তুক, ব্যাটা হওয়ার শোধ বিড়িতে হবেনা। তার লাগ্যা আরও বেশি খরচা করতে হবে কিন্তুক।”
আনসার আলি হেসে বলল, “তুমি কী খাতে চাও গোলাম! তুমি যা খাবা আমি তাই খায়াব।”
গোলাম মিঞা বিড়িতে একটা টান দিয়ে বলল, “কী আর খাব আনসার ভাই! আমাদের খাবার আর ধক কত? রাতে একটু বেশি খালেই শালা প্যাট ফুল্যা যায়। সারারাত প্যাট উঠা নামা করে।”
আনসার আলিও বিড়িতে একটা টান মেরে বলল, “সেটাই ভাই। আমরা আর কটুকু খাতে পারি! খাওয়ার লোক থাকে আলাদা।”
গোলাম মিঞা বিড়িতে আরেকটা টান দিল। একটু থেমে কিছু একটা ভেবে বলল, “আনসার ভাই। একটা কথা বুলি। কিছু বুদ্ধি দাওতো।”
“বল।” আনসার আলি গোলাম মিঞার দিকে তাকাল।
গোলাম মিঞা বিড়িতে একটা লম্বা টান দিয়ে বলল, “আমার বড় মাইয়্যাটার বয়স তো ত্যার-চোদ্দ হয়্যা গ্যাল। ফকিরুদ্দি একটা কাম আন্যাছিল। ওপারে বেনীগ্রামে বাড়ি। কেরালায় রাজমিস্ত্রী কাজ করে। দেখতে শুনতেও ভাল। দিয়া দিব নাকি বিহ্যা!”
‘গোলাম ভাই। তোমাকে কী বুলব! বুঝতে পারছিনা। আজকাল তো ত্যার-চোদ্দ বছর বয়স বিহ্যার বয়সই লয়। ওসব আগে ছিল। আবার ছেল্যা ভাল হলে বিহ্যা দিয়্যা দেওয়াও উচিত। তবে এত তাড়াহুড়ো করোনা। দেখ্যাশুন্যা কর্যা ভালোভাবে বুঝ্যা বিহ্যাটা দিতে হবে। ছেল্যার সম্পর্কে আরও খোঁজ খবর লিতে হবে।” আনসার আলি বিড়িতে শেষ টান দিতে দিতে বলল কথাগুলি।
গোলাম মিঞার বিড়ি শেষের দিকে চলে এসেছিল। সেও বিড়িতে একটা লম্বা করে সুখ টান মারল। তারপর আনসার আলির দিকে তাকিয়ে বলল, “কথা কি জান আনসার ভাই। তুমি ঠিকই বুল্যাছ। আমারও মনের কথা তাই। এত তাড়াতাড়ি বিহ্যা দ্যাওয়া ঠিক হবে না। কিন্তুক পরে যদি বিহ্যার কাম আর না আসে? ছেলেটারে হাত ছাড়া করা কি ঠিক কাম হবে?”
আনসার আলি কিছু বলল না। চুপ করে বিড়িতে টান দিতে থাকল।
গোলাম মিঞা আবার বলল, “কী আনসার ভাই! চুপ কর্যা আছ। কিছু বুলছনা জী?”
আনসার আলির বিড়ি শেষ হয়ে এসেছিল। বিড়িতে লম্বা করে একটা শেষ টান মেরে জমিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলল, “কী আর বুলব গোলাম। সবই তো বুঝছি। তো কথাটা হল কী, মায়্যাটা বেজাই ছোট। এখন বিহ্যা দ্যায়া ঠিক হবে না বুল্যায় আমার মনে হয়। তাও যুদি তোমার মুন চায়, ছেল্যা যুদি ভালো হয়, তালে দিতে পার।”
“আমিও বুঝি আনসার ভাই। এতটুকু মায়্যার বিহ্যা দ্যায়া ঠিক লয়। কিন্তুক, এখুন বিহ্যা না দিলে পরে যুদি পস্তাতে হয়। তাই ভাবছি বিহ্যাটা না হয় দিয়্যায় দিই। তারপর যা হয় হবে। ছেল্যা হাতছাড়া করা যাবেনা। মায়্যা লোকের বয়স বেশি হইয়্যা গ্যালে পরে আবার ছেল্যা পাওয়া কঠিন হইয়্যা যায়!” চিন্তা করতে করতে কথাগুলি বলল গোলাম।
“যেটা ভালো হবে, করো গোলাম। তবে কিনা বেটির ক্ষতি যাতে না হয়, সেটা দেখবা।” কথাগুলো বলে আনসার আলি নিড়ানি নিয়ে জমিতে নিড়ানি দিতে শুরু করল।
কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলনা গোলাম মিঞা। আনসার আলির কাছে আরেকটি বিড়ি চাইল। তারপর বিড়িতে টান দিতে দিতে সেও উঠে গেল নিজের জমিতে।
•৬•
সন্ধ্যা নেমেছে।
সফর আলি পরাণের বাড়ি থেকে বের হল। মালতীর কয়েকদিন থেকে জ্বর। কিছুতেই ছাড়ছেনা। বিকেলের দিকে পরাণ এসে বলেছিল, “সফর ভাই। একবার আমার ঘরে যাওয়া লাগে। সারির মায়ের খুব জ্বর। বিছানা ছাড়্যা উঠতে পারছেনা।”
সফর আলি না করেনি। কাউকে সে না করেনা। হাতে সময় থাকলেই বেরিয়ে পড়ে। আজও বেরিয়ে পড়েছিল। অন্যদিন সে সাইকেলে চেপে রোগীর বাড়ি যায়। আজ ইচ্ছে করেই হেঁটে এসেছিল। পরাণ মণ্ডলের বাড়ি যেতে খুব বেশি মিনিট দশ সময় লাগে। বিকেলটা হাঁটাও হবে। রোগী দেখাও হবে।
পরাণ মণ্ডলের বাড়ি পদ্মার পাড়েই। বাংলাদেশের দিক থেকে এসে ঠিক এখানেই পদ্মা কিছুটা বাঁক নিয়ে আখরীগঞ্জের দিকে বয়ে গেছে। সফর আলিকে পদ্মার পাড় বেয়েই হেঁটে যেতে হবে।
এখানে পদ্মা অনেক বেশি স্পষ্ট ও চওড়া। পাড় অনেকটা খাড়া। পূব দিকে পূর্ণিমার চাঁদ উঠছিল। পদ্মার বুকে চলছিল আলো আঁধারির অস্পষ্ট অদ্ভুত লুকোচুরি খেলা। সেই অস্পষ্ট আঁধারিতে সফর আলি তাকিয়ে দেখল পদ্মার দিকে মুখ করে বসে আছে একটি মেয়ে। পিঠ বেয়ে ঝুলে আছে এলোমেলো খোলা চুল। সামনের দিকে থেকে জোরে বাতাস আসছে। চুলগুলোও উড়ে বেড়াচ্ছে এলোমেলো। মেয়েটি একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে পদ্মার জলের দিকে।
সফর আলি হাঁটতে হাঁটতে সামান্য থামল। এই সন্ধ্যেবেলায় এখানে একাকী একমনে একটি মেয়ে বসে আছে! কে বসে আছে? কেন বসে আছে? সাধারণত, এই সময়ে এইভাবে পদ্মার পাড়ে কেউ বসে থাকেনা।
মেয়েটির দিকে লক্ষ রেখে ধীর পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে এল সফর আলি। কাছাকাছি হতেই সে দেখল আলুথালু হয়ে বসে আছে রূপসী।
কতজনের কাছ থেকে সে শুনেছে নদীর ধারে কালি বসে থাকে। মাথায় তার লম্বা চুলের ঝুটি। মানুষ পেলেই হাত বাড়িয়ে খপ করে ধরে জলে ঝুপ করে ঝাঁপ মারে। ভাবতেই সফরের গা বেয়ে একটা হালকা স্রোত বয়ে গেল
রূপসীকে একা এই অবস্থায় দেখে প্রথমে চমকে উঠল সফর আলি। এই সময় এখানে একা একমনে পদ্মার পাড়ে বসে কী করছে রূপসী। কী ভাবছে ও! সামান্য দাঁড়িয়ে থেকে পেছন থেকে ডাকল, “রূপসী! তুই এখানে?”
কোনও উত্তর করল না রূপসী। চুপ করে একমনে পদ্মার দিকে মুখ করে বসেই থাকল সে।
সফর আলি আবার ডাকল, “রূপসী। তুই এই সময় এখানে বসে কী করছিস?”
এবারও রূপসী কোনও উত্তর করল না।
সফর আলি এবার একটু জোরে ডাকল, “রূপসী!”
রূপসী নিরুত্তর।
মনে মনে ভয় পেল সফর আলি। রূপসী কথা বলছে না কেন? কী হয়েছে ওর? না কি ও রূপসী নয়? অন্য কেউ! রূপসীর রূপ ধরে এখানে বসে আছে! কতজনের কাছ থেকে সে শুনেছে নদীর ধারে কালি বসে থাকে। মাথায় তার লম্বা চুলের ঝুটি। মানুষ পেলেই হাত বাড়িয়ে খপ করে ধরে জলে ঝুপ করে ঝাঁপ মারে। ভাবতেই সফর আলির গা বেয়ে একটা হালকা স্রোত বয়ে গেল। এসব গল্পকথায় বিশ্বাস করেনা সফর আলি তবু এই সময় সেই শোনা কথায় বেশি করে মনে পড়ে গেল তার।
সামান্য চুপ থেকে সাহসে ভর করে এবার রূপসীর পাশে গিয়ে দাঁড়াল সফর আলি। সামনে অতলান্ত পদ্মা কূল কূল করে বয়ে চলেছে। আর রূপসী একমনে সেদিকে তাকিয়ে আছে।
সফর আলি কিছু বলতে যাবে এই সময় রূপসীই বলল, “সফর ভাই। পদ্মার এত জল কোথায় যায়?”
সফর আলি এই প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিলনা। একটু থতমত খেয়ে বলল, “হঠাৎ এই সময়ে এই প্রশ্ন কেন রূপসী? কী হয়েছে তোর? ডাকছি তো উত্তর দিচ্ছিস না কেন?”
“বলো না সফর ভাই। এত জল বছরের পর বছর ধরে কোথায় যায়?”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটু থেমে সফর আলি বলল, “সাগরে। কিন্তু এই সন্ধেবেলায় তোর এই প্রশ্ন কেন? এই সন্ধেতে এখানে বসেই বা তুই কী করছিস? কী হয়েছে তোর?”
“সাগর এত জল নিতে পারে?” নদীর দিকে তাকিয়ে রূপসী নিরুত্তাপ প্রশ্ন করল।
সফর আলি রূপসীর কথার কোনও উত্তর দিলনা। বলল, “রূপসী! কী হয়েছে তোর? বাড়ি যাবিনা?”
“এক সাগর হৃদয় কোথায় পাওয়া যায় বলতে পার সফর ভাই?” উদাসীন ভাবে কথাগুলি বলল রূপসী। যেন সে সফর আলিকে দেখতে পাইনি। যেন তার আশেপাশে কেউ নেই।
সফর আলি বুঝতে পারছিল না কী হয়েছে রূপসীর। এখন কী করা উচিত, কী বলা উচিত, সেটাও সে ভেবে পাচ্ছিলনা। একটুখানি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল সে। তারপর রূপসীর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বলল, “এই সন্ধেরাতে সাগর, জল, হৃদয় এসব কী বলছিস রূপসী! উঠ! চল বাড়ি যাবি।”
এই বলে সে সাহস করে রূপসীর ডান হাতের বাহু ধরে টান দিল।
বাহুতে হাত দিতেই উঠে দাঁড়াল রূপসী।
চাঁদের আলো এখন আরও বেশি স্পষ্ট, আরও বেশি উজ্জ্বল। নদীর জল সেই উজ্জ্বলতাকে আরও বেশি সুন্দর করে তুলেছে। সফর আলি স্পষ্ট দেখতে পেল রূপসীর চোখে এক বুক পদ্মার জল। পদ্মার অজস্র গতি ধারার মতোই গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে।
এই অবস্থায় সফর আলি নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। তার ইচ্ছে হল রূপসীকে বুকে টেনে ধরে গালে একটা চুমু দিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দেয়। কিন্তু পারল না। নদীর জলে চাঁদের আলোর লুকোচুরি খেলা চলছে। সেদিকে তাকিয়ে সফর আলি বলল, “কী হয়েছে তোর রূপসী? কাঁদছিস কেন?”
এবার রূপসী উত্তর দিল, “কিছু হয়নি সফর ভাই। তুমি চলে যাও।”
“আমি চলে যাব! আর তুই এখানে বসে থাকবি? বাড়ি যাবি না?”
“না আমি যাবনা। তুমি যাও।”
“তোর সাথে দেখা না হলে চলেই যেতাম। এখন তোকে ছেড়ে আমি যাব কী করে?”
“মনে কর দেখা হয়নি।”
সফর আলি এবার একটু ধমকের সুরে বলল, “পাগলামি করিস না রূপসী। আমি যা বলছি শোন। চল। বাড়ি চল।”
রূপসীও জোরে জোরে বলে উঠল, “কোথায় যাব সফর ভাই? কার বাড়ি যাব? আজ বিকেলে ও আমাকে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। বলেছে যেখানে পারিস চলে যা। এই বাড়িতে তোর ঠাঁই হবেনা। তুই গেলে আমি আরেকটা বিয়ে করব। আরেকটা সংসার করব। তুই গেলে সংসারে আমার সুখ আসবে।” কথা শেষ করতে পারলনা রূপসী। গলা ধরে এল তার।
অস্বস্তিতে পড়ল সফর আলি। এরকম সময় সে খুব আবেগাপ্লাবিত হয়ে পড়ে। নিজেকে কিছুটা সংযত রেখে বলল, “সব বুঝতে পারছি রূপসী। এখন আমার সাথে বাড়ি চল। তারপর দেখছি কী হয়েছে?”
“যেতে পারি। কিন্তু আমি ওর বাড়ি যাবনা।”
“ঠিক আছে। আগে তো চল। তারপর দেখছি।”
বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল সফর আলি। তার পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল রূপসীও।
হাঁটতে হাঁটতে সফর আলি জিজ্ঞাসা করল, “তোকে মারল কেন বসির?”
“তা আমি কী করে বলব? দুপুর গড়িয়ে কোথা থেকে বাড়ি ফিরল। আমি ভাত খুলে দিলাম। বলল আমার হাতে সে ভাত খাবেনা। আমি জানতে চাইলাম কেন খাবেনা। কোনও উত্তর দিলনা। ভাতের থালাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে উঠে গেল। আমিও আর কিছু বলিনি। বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই বলল, ‘তুই আমার বাড়ি থাক্যা চল্যা যা’। আমি বললাম, ‘কোথায় যাব?’ সে বলল, ‘জানিনা। তোর যেদিকে চোখ যাবে চল্যা যা। আমি আরেকটা বিহ্যা করব। তোর মতো মাগীর আমার দরকার নাই’। আমি বললাম ‘দরকার নাই তো আমাকে ছাড়্যা দে!’ আর অমনি লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করল। মুখে বলতে লাগল, ‘তুই চল্যা যা। তোকে আমি ছাড়্যাই দিব। তোর যেদিকে চোখ যাবে তুই চল্যা যা’।” রূপসী একনাগাড়ে কথাগুলো বলে গেল। যেন কতদিনের পরম আত্মীয়ের সামনে, তার কোনও পরম বাল্যবন্ধুর সামনে ভেতরের জীবন যন্ত্রণার সব কথা বলে সে হালকা হতে চায়।
“তোকে এমনি এমনি মারতে গেল বসির?” সফর আলি জিজ্ঞাসা করল।
“সে তো আমি জানিনা। হয়তো আমাকে আর ভালো লাগছেনা। অন্য কাওকে হয়তো ওর ভাল লেগেছে।”
চুপ করে হাঁটতে থাকল সফর। একটু পরে বলল, “তুই এদিকে এলি কেন রূপসী?”
“আমি তো তোমার চেম্বারে গিয়েছিলাম। ও আমাকে মারল। ঘাড়ের উপর মেরেছে। খুব ব্যথা করছিল। তোমার কাছে গিয়েছিলাম ওষুধ নিতে। ওখানে গিয়ে শুনলাম তুমি পরাণের বাড়ি গেছ। তাই এদিকে চলে এলাম। ভাবলাম রাস্তায় যদি তোমার দেখা পাওয়া যায়।” যেন কোনও পরম আত্মীয়ের সাথে কথা বলছে রূপসী। যেন এই পরম আত্মীয়ই তার একমাত্র আশা ভরসার স্থল।
“আমাকে রাস্তায় দেখার ইচ্ছে হল কেন রূপসী?” সফর আলি হেসে বলল।
“জানিনা সফর ভাই। এমনিই মনে হল। মনে হল সফর ভাইয়ের কাছে যায়। তোমাকে কাছে পেলে আমার সব ব্যথায় যেন দূর হয়ে যায়। যদি জিজ্ঞাসা কর কেন, আমি বলতে পারবনা।”
সফর আলি বলল, “আমার উপর এত আশা ভরসা কী করে হল রূপসী! আমি তো তোর জন্য সেরকম কিছু উপকার বা ভালো কিছু করিনি।”
“সেটাই তো আমি জানিনা সফর ভাই। তবু সব কিছুর মধ্যে আমি তোমাকে খুঁজে পাই। মনে হয় আর কেউ না থাক, আমার পাশে সফর ভাই আছে। ওর কাছে গেলে আমার সব সমাধান হয়ে যাবে।” হাঁটতে হাঁটতে রূপসী এমনভাবে কথাগুলো বলল, যেন এখন তার আর কোনও দুঃখ নেই, ব্যথা নেই, কেউ তাকে মারেনি, কেউ বকেনি। সবকিছু ঠিক আছে।
সফর আলি হাসতে হাসতে বলল, “তাই! তুই আমার উপর এত নির্ভর করিস রূপসী! আমি তো এর কিছুই জানিনা।”
“তুমি কী করে জানবে! তুমি তো তোমার জগতে বাস কর। সেখানে আমাকে নিয়ে তোমার ভাবার সময় কোথায় সফর ভাই। আমি এমন কী একটা মেয়ে যে আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে! জানতে হবে!” রূপসীর গলায় মৃদু অভিমানের সুর।
হাঁটতে হাঁটতে সফর আলি বাড়ির কাছে এসে পড়েছিল। বলল, “নারে না রূপসী। তুই যা ভাবছিস তা নয়। এসব নিয়ে পরে কথা হবে। এখন চল তোকে ঔষুধ দিই। তোর শরীরের ব্যথা আগে ভাল করি। তারপর মনের ব্যথার কথা ভাবা যাবে।”
সফর আলির চেম্বারে ঢুকতে ঢুকতে রূপসী বলল, “শরীরের ব্যথা সেরে যায় সফর ভাই। মনের ব্যথা সারেনা। আমার মনের ব্যথা সারাতে তুমি পারবেনা। এ জগতের কেউ পারবে না।”
রূপসীর কথার কোনও উত্তর দিলনা সফর। চেম্বারের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত সাড়ে আটটা বাজছে। রাত খুব বেশি হয়নি, কিন্তু চরের মানুষের কাছে এখন অনেক রাত। সন্ধ্যে হতে হতেই রাতের খাবার খেয়ে নেয় তারা। তারপর রাস্তার ধারে, বাড়ির বৈঠকখানায়, গোরুর গাড়িতে, কেউ কেউ মোড়ের দিকে বসে কিছুক্ষণ গল্প করে। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে। সারারাত আপন মনে ঘুমিয়ে সকালে সূর্য ওঠার আগেই বিছানা ছাড়ে। পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে যায়। বাড়ির মেয়েরা উঠে বাড়ির জমে থাকা কাজ করে।
সফর আলি রূপসীর ঘাড়ে হাত রাখল। কালো রেশম চুল কানের পাশ বেয়ে ঘাড়ের উপর দিয়ে সোজা পিঠ বরাবর নিচের দিকে চলে গেছে। কানের নিচের দিকে মারের একটা দাগ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু ঘরের লন্ঠনের আবছা আলোয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা। টর্চ জ্বেলে সফর আলি রূপসীর ঘাড়ের উপর আলো ফেলল। দেখল কানের লতিকার নীচ থেকে ঘাড়ের দিকে পিঠ বরাবর মারের দাগ। লম্বা কালসিটে পড়ে গেছে। ফুলেও আছে কিছু অংশ। সেখানে হাত দিতেই রূপসী ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। জায়গাটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিয়ে সেখানে একটা ব্যথার মলম লাগিয়ে দিল সফর আলি। তারপর কয়েকটি ব্যথার ট্যাবলেট একটি প্যাকেটে ঢুকিয়ে রূপসীর হাতে দিয়ে বলল, “সকাল বিকেলে খাবার পর ট্যাবলেট কটা খেয়ে নিবি। আর এই ট্যাবলেটটা সকালে খাবার আগে খাবি।”
ট্যাবলেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে রূপসী ঘরের একধারে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল। যেন সে কিছু বলতে চায়। সফর তার দিকে তাকাল। ভাবল, হয়তো রূপসীর কাছে টাকা নেই। সেকথা বুঝতে পেরে সফর আলি বলল, “টাকা পরে দিস রূপসী। তুই এবার বাড়ি চলে যা। অসুবিধা হলে কাল বিকেলে একবার আসিস। তবে আশাকরি আর আসতে হবে না। ব্যথা কমে যাবে।”
এবার রূপসী বলল, “ আমি বাড়ি যাবনা। কোথায় থাকব আমি?”
সফর আলি বলল, “কোথায় থাকব মানে? তুই এখন বাড়ি যা। তোর বাড়ি।”
রপসী বলল, “আমি তো বলেছি ওর বাড়ি আমি যাবনা। ওটা আমার বাড়ি না।”
“পাগলামি করিস না রূপসী। স্বামী স্ত্রীতে কত ঝামেলা হয়। আবার মিলও হয়। তুই ঘরে যা। বসির তোর জন্য ঘরে অপেক্ষা করে আছে।” রূপসীকে বোঝানোর চেষ্টা করল সফর আলি।
“ও আমার স্বামী না। ওর বাড়ি গেলে আমাকে মেরে ফেলবে ও।” রূপসীর কথার মধ্যে একটা আতঙ্কের সুর ভেসে এল।
“চল আমি তোকে রেখে আসছি।”
সফর আলি বাইরে বেরতে যাবে, এমন সময় বাইরে বসির মিঞার গলা শোনা গেল, “চেম্বারে আছ নাকি সফর!”
চেম্বারের ভেতর থেকে সফর আলি বলল, “হ্যাঁ, আছি বসির। তোমার কথায় বলছিলাম।”
“আমার কথা! ক্যান! রুপসী আছে বোধহয়!”
বসিরের কথায় সামান্য কৌতুক ছিল। সফর আলি সেটা বুঝতে পারল। কিন্তু সে কথায় গা না করে চেম্বারের বাইরে এসে বলল, “হ্যাঁ। আছে। ওকে নিয়েই তোমার কথা হচ্ছিল।”
“কি বলছে ও। বাড়ি যাবে না?”
“না না। বাড়ি যাবেনা কেন! তুমি ওভাবে কথা বললে কীভাবে বাড়ি যাবে।”
“তাহলে কীভাবে কথা বলতে হবে সফর আলি! আমাকে শিখিয়ে দাও।” কিছুটা ব্যাঙ্গাত্বকভাবে বলল বসির আলি।
সফর আলি আবার একটু থতমত খেল। একটা কড়া করে কথা বলতে ইচ্ছে হল তার। কিছু একটা বলতে গিয়েও নিজেকে সংযত করে নিয়ে বলল, “আমি আর তোমাকে কী শেখাব বসির। তুমি তো…।”
কথা শেষ করতে দিলনা বসির। বলল, “ঠিক আছে সফর। মহারাণীকে বলো বাড়ি যাবে কিনা?”
সফর আলির ইচ্ছে হল রূপসীকে যেতে না দেবার। বসিরের মেজাজ ভালো নেই। জানিনা বাড়ি গিয়ে আবার মারধর শুরু করবে কিনা।
রূপসীর দিকে তাকাল সফর আলি। দেখল ট্যাবলেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে নীরবে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।
সফর আলি আর কিছু না বলে চুপ করে রূপসীর চলে যাবার দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর একটা লম্বা শ্বাস ফেলে চেম্বারের দরজা বন্ধ করল সে।
ক্রমশ…
আরো পড়ুন : চর (দ্বিতীয় পর্ব)
❤ Support Us








